যুক্তরাষ্ট্রে কারাবাস
ট্রাম্পের ক্ষমায় দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট

ছবি: রয়টার্স
এক দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট; কিন্তু কারাগার ছিল আরেক দেশে। মাদক ও অস্ত্র পাচারের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার আট মাস পর গতকাল রবিবার ফিরেছেন নিজ দেশে।
২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হার্নান্দেজ। গতকাল একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে তিনি রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানালেন পরিবারের সদস্যরা। বিমান থেকে নেমে হার্নান্দেজ ও তার পরিবারের সদস্যরা রানওয়েতেই হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। পরে তারা বাসে করে আসা শত শত সমর্থকের উদ্দেশে হাত নাড়েন। সেখান থেকে তেগুসিগালপার টনকন্টিন বিমানবন্দরের উদ্দেশে আরেকটি ফ্লাইটে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
আগামী ৩ আগস্ট প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একটি আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গত জুনে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে দেশে ফিরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
গত বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৭ বছর বয়সী হার্নান্দেজ জানালেন, তিনি আদালতের কাছে অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন করবেন।
চলতি মাসের শুরুতে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘নিজের দেশে ফিরতে পেরে হৃদয়ে যে গভীর আবেগ ও আনন্দ অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ তিনি আরও লিখেছিলেন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার দিন গুনছিলেন।
রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, ‘এটি সহজ ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠিন ছিল। কারাগারে আমি যা সহ্য করেছি, তা আমি কারও জীবনে কামনা করি না।’
হার্নান্দেজের আইনি জটিলতার শুরু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজধানী তেগুসিগালপায় গ্রেপ্তারের মাধ্যমে। দুই মাস পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত মাদক ও অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২৫ সালের শেষ দিকে, হন্ডুরাসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করলে দেশটির এক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীসহ অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হন্ডুরাসের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন।
তবে ট্রাম্পের ক্ষমার সিদ্ধান্ত হন্ডুরাসে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।
‘প্যান্ডোরা-২’ নামে পরিচিত একটি দুর্নীতি তদন্তে হার্নান্দেজ এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১০-১৩ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সরকারি তহবিল রাজনৈতিক প্রচারণায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি অংশ হার্নান্দেজের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছিল।
তবে একই তদন্তে অভিযুক্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট পোরফিরিও লোবো এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী উইলফ্রেডো সেরাতোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।
রয়টার্সকে হার্নান্দেজ বলেছেন, ভবিষ্যতে আবারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে এটি এখনই তার পরিকল্পনায় নেই।
তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের দলে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চাই।’ তার ভাষ্য, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিতে তিনি প্রস্তুত।




