কেন পদত্যাগ করলেন কিয়ার স্টারমার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২৪ সালের ৪ জুলাই ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী আসার পথও খুলে গেল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্টারমার বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ও দলীয় এমপিদের চাপে অবশেষে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন।
স্টারমারের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পরাজয় স্টারমারের গদির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর গত শুক্রবার নাটকীয়ভাবে বদলে যায় পরিস্থিতি। এদিন লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে স্পষ্ট জয় পেয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান। তিনি পরাজিত করেন নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলের প্রার্থীকে। এক বছরের বেশি সময় জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম।
এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। তাদের ধারণা, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক এবং যোগাযোগ দক্ষতার জন্য পরিচিত বার্নহাম দলটির ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কারণ স্টারমারের নেতৃত্বে দলটির জনসমর্থন কমেছে এবং তার জনপ্রিয়তার হার নেমে গেছে, যা ব্রিটিশ নেতৃত্বের ইতিহাসে অন্যতম নিম্নপর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই প্রত্যাশিত প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিও কম নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও, বৈদেশিক নীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে এখনো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি বার্নহাম । স্টারমারের মতো তিনিও হয়তো দেখবেন, তার নীতিগত চালচলনের জায়গা খুব সীমিত। কারণ একদিকে থাকবেন অতিরিক্ত ঋণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে থাকবেন ক্ষুব্ধ জনগণ। এই জনগণ মনে করেন, সঠিকভাবে চলছে না দেশ।
উচ্চঋণ, সুদের চাপ, বছরের পর বছর দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর সংগ্রাম, প্রতিরক্ষার মতো খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ব্রিটেনের ঋণগ্রহণ ব্যয় সবচেয়ে বেশি। রয়টার্স যেসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা শুক্রবার বললেন, ‘আমাদের মূল্যায়নে, বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে। অর্থবহ পরিবর্তন আনার মতো কার্যকর উপকরণ খুব সীমিত থাকবে।’
প্রায় দুই শতকের মধ্যে এত দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের নজির ব্রিটেনে নেই। এটি দেখায়, জীবনমানের উন্নয়ন, জনসেবা শক্তিশালী করা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।




