যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে ‘বিপাকে’ ভারত

ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে ওয়াশিংটনের কাছে নতিস্বীকার বলে অভিহিত করলেও, কেন্দ্রীয় সরকার এই চুক্তিকে লাভজনক প্রমাণ করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
কৃষকদের উদ্বেগ
এই চুক্তির ফলে ভারতের শক্তিশালী কৃষক ইউনিয়নগুলো চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তায় কৃষিপণ্য আমদানি শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রায় ৭০ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
অবাস্তব আমদানির লক্ষ্যমাত্রা?
চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্ষিক আমদানি দ্বিগুণ করে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া কার্যত অবাস্তব।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব জানান, যদি ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের আরও ২০০টি বোয়িং বিমানও কেনে, তবুও মোট মূল্য হবে মাত্র ৬০ বিলিয়ন ডলার। ফলে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া কঠিন। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, চুক্তির ভাষা ‘বাধ্যতামূলক’ না হয়ে ‘ইচ্ছাপ্রকাশ’ হওয়ায় ভারত কিছুটা আইনি সুরক্ষা পেতে পারে।
রাশিয়ার তেল ও মার্কিন শুল্ক
চুক্তির আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয় হলো রাশিয়ার তেল আমদানি। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার ‘প্রতিশ্রুতি’ দেওয়ায় তারা ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে আসছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থ ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
তথ্য মতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল আমদানি করত, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমে ১১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এর পরিবর্তে ভারত ভেনিজুয়েলা থেকে তেল আমদানির দিকে ঝুঁকছে।
ট্রাম্পের অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপি-কে বলেন, "ট্রাম্পের যুগে 'নিশ্চয়তা' বলে কিছু নেই। চুক্তি সই হলেও ট্রাম্প যেকোনো সময় নতুন করে শুল্ক আরোপ করতে পারেন।" দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের এমন অনিশ্চিত আচরণ দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভঙ্গুর। এর বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সন্দেহ রয়ে গেছে।

