দেড়শো বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল বই!

জরিমানা দাঁড়াত প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার
অস্ট্রেলিয়ার কিয়ামা লাইব্রেরিতে সংস্কারের সময় দেয়ালের ভেতর থেকে মিলল ১৮৫৮ সালের একটি বই। যদিও বইটির শেষ পাঠক কে ছিলেন তার আর কোনও খোঁজ নেই। অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর পর ফিরল একটি বই। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাড়ি সংস্কারের সময় সিল করা অগ্নিকুণ্ডের (ফায়ারপ্লেস) দেয়ালের ভেতরে ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা একটি চায়ের বাক্স থেকে এই বইটি উদ্ধার হয়। যদিও পরে সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয় নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির দক্ষিণে সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরিতে।
বইটির নাম ‘Antiquities of Athens’। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৫৮ সালে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিরল ঘটনার কথা জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন যে, এর আগে এত পুরনো কোনও বই আগে কখনও আমাদের কাছে ফেরত আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন লাইব্রেরির খবরে দেখি যে, অনেক সময় ৩০ বা ৪০ বছর আগে হারানো বই ফেরত আসে কিন্তু ১৫০ বছরের ঘটনা এই প্রথম।'
যিনি বইটি উদ্ধার করেছেন তিনি একটি বাড়ি সংস্কারের সময় সিল করা ফায়ারপ্লেসের
ভেতরে ইট দিয়ে আটকে রাখা চায়ের বাক্সে এটি খুঁজে পান। যদিও তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী পুরনো নিয়মে জরিমানা আদায় করা হলে বইটির দেরিতে ফেরত দেওয়ার জন্য জরিমানার অঙ্ক দাঁড়াত প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার)। বইটির ভেতরে মলাটে তখনকার নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে তিন পেনি করে জরিমানার কথা লেখা ছিল। একই সঙ্গে সেখানে ১৮৭২ সালে লাইব্রেরি চালুর সময়কার বিভিন্ন নিয়মও লেখা ছিল। তবে এই বিপুল জরিমানা আদায়ের কোনও সুযোগ আর নেই। কারণ ১৮৭০ এর দশকে কোন ব্যক্তি কখন এই বই নিয়েছিলেন, সেই তথ্য সংরক্ষিত লাইব্রেরির রেজিস্টার বহু আগেই হারিয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। ফলে বইটির শেষ পাঠক কে ছিলেন সেটা জানার আর কোনও উপায় নেই।
মিশেল হাডসন জানান যে , সে সময়ের নিয়ম ছিল- আগের বই ফেরত দিয়ে জরিমানা না মেটানো পর্যন্ত আর নতুন কোনও বই নেওয়া যেত না। মজা করে তিনি বলেন যে, 'হয়তো সেই কারণেই আর বইটি ফেরত দেওয়া হয়নি।' সে সময় অন্তত ছয়জন পড়তে জানেন- এমন একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই পড়ার জন্য নিতে পারত। চিমনির নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বইটিতে পানির দাগও পড়েছে। লাইব্রেরির মূল সংগ্রহে প্রায় এক হাজার বই ছিল। তার মধ্যে এই বইটি ছিল ৫০৬ নম্বর । হাডসনের ধারণা লাইব্রেরি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি স্থানীয় ইতিহাস বিভাগের সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে বলেও তিনি জানান। হাডসনের কথায় 'এবার আর বইটি কাউকে ধার দেওয়া হবে না। আবার ১৫০ বছর অপেক্ষা করার ইচ্ছা আমাদের নেই।'







