ইরানগামী জাহাজে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অবরোধে কঠোর যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি
ইরানের দিকে যাত্রারত একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটির ভাষ্য, একাধিক সতর্কবার্তা অমান্য করায় হামলা চালানো হয় গাম্বিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে। বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা আল-জাজিরা।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এম/ভি লিয়ান স্টার নামের জাহাজটি ওমান উপসাগর হয়ে একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে জাহাজটিকে ২০টিরও বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করছে এটি।
সেন্টকম উল্লেখ করে, জাহাজটির ক্রুরা নির্দেশনা না মানায় হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ অচল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান। এর ফলে জাহাজটি আর ইরানের দিকে অগ্রসর হতে পারেনি।
সংস্থাটির দাবি, চলমান নৌ অবরোধ কার্যকর করতে এ পর্যন্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১১৬টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে ইরানি জাহাজ এবং ইরানি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শনিবার বলেছেন, ‘অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, অবরোধের কারণে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার তেল রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ইরানের।
এদিকে, অবরোধ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশের পর কিছুটা কমেছে। শনিবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৮৭ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপরও পড়েছে জ্বালানি মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব। দেশটিতে শনিবার গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৩৬ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ছিল মাত্র ৩ দশমিক ১৬ ডলার।






