ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ‘থামিয়ে’ প্রশংসিত পাকিস্তান

(বাম থেকে ডানে) তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ছবি : রয়টার্স
বিশ্ব নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার জন্য এবং আলোচনা সহজতর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা।
জাতিসংঘের মহাসচিব গুতারেস যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এটিকে সংঘাতের অবসান ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
গুতারেস যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনায় সমর্থন দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার, মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করে স্বাগত জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে এরদোয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিটি এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং তিনি এর ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি পাকিস্তানের অসাধারণ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য ইসলামাবাদের প্রশংসা করেছেন। এ ছাড়া, এই চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয় দেশের নেতৃত্বেরও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘কূটনৈতিক উদ্যোগে কাতার ও সৌদি আরবের দেওয়া সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই ‘
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক সরকারি বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এ পর্যন্ত গৃহীত প্রচেষ্টার প্রশংসা করি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক্সে লিখেছেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তান, কাতারসহ অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানাই, যারা এই যুগান্তকারী সাফল্যে অবদান রেখেছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছি এবং এটিই সেই অগ্রগতি যা আমরা দেখতে চেয়েছিলাম।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে হওয়া চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি এই বোঝাপড়া সহজতর করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকার জন্য পাকিস্তানসহ অন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, চুক্তির জন্য তাদের অবদান ছিল অপরিহার্য।
এ ছাড়া জাপান, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জার্মানিসহ বহু দেশ সরকারি বিবৃতিতে মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান ও অন্য আরব দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভর দেশের কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন, তারা যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার করতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছেন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র: জিও নিউজ


