বিরোধীদলীয় নেতা লাপিদের হতাশা
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরাজয়

ইসরায়েলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি একে দেশটির ইতিহাসে চূড়ান্ত পর্যায়ের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বুধবার সকালে ভেরিফাইড এক্সে তিনি হতাশার সুরে লেখেন, ‘আমাদের সমগ্র ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। দেশের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয় নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন সেই আলোচনায় উপস্থিতই ছিল না ইসরায়েল।’
এজন্য তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে ইয়ার লাপিদ লেখেন, ‘যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে সেনাবাহিনী, জনগণ অসাধারণ সহনশীলতা দেখিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন নেতানিয়াহু।’
‘তিনি (নেতানিয়াহু) কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি নিজেই যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও পূরণ করতে পারেননি’, যোগ করেন লাপিদ।
বিরোধীদলীয় এ নেতার আশঙ্কা, ‘অহংকার, অবহেলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি করেছেন, তা মেরামত করতে ইসরায়েলের সময় লাগবে বছরের পর বছর।’
পাঁচ সপ্তাহ টানা যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আজ ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান, যা মেনে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শুধু লেবানন সীমান্তের দফাকে অস্বীকার করলেও বাকি বিষয়গুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ নিহত হন শীর্ষ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা।
প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধে যোগ দেয় লেবাননের হিজবুল্লাহও।
বুধবার ভোরের যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষই বিজয় হিসেবে দাবি করছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর ইরানের রাজধানী তেহরান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিজয় মিছিল করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস আলাদাভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের জয় বলে দাবি করেছে।



