ইরানের এক টানেল, তিন সেতু, ১১৬ টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা
- পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি থেকে সরে আসার চাপ ইরানি আইনপ্রণেতাদের

ছবি: রয়টার্স
ধোঁয়া আর আগুনে ঢেকে যাচ্ছে হরমুজ প্রণালির দু-পাড়। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভেঙে পড়ছে ইরানের সড়ক যোগাযোগ, পাল্টা হামলায় নতুন করে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। সংঘাত এখন আর শুধু আকাশে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের তান্ডবে ভেঙে পড়ছে সড়ক, বন্দর ও কৌশলগত স্থাপনা। সপ্তম দিনের হামলায় রাতভর ইরানের হরমুজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এক সড়ক টানেল, তিন সেতু ও ১১৬ টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ শনিবার প্রাদেশিক সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ মির্জায়ি টানেলের উভয়মুখী অংশে ক্ষতি হয়েছে। বন্দর আব্বাস-সিরজান মহাসড়কের রুদখানেহ শুর সেতুতেও আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া মিনাব মোড় থেকে রুদানগামী সড়কের আরও দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অচল হয়ে গেছে হরমুজগান প্রদেশের ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার। প্রদেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, এর ফলে বন্দর আব্বাস, হাজিআবাদসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ল্যান্ডফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
থেমে নেই ইরানও। পাল্টা জবাবের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জ্বালানি সহায়তা জেটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একটি সামরিক বিমান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম বোর্ডের সদস্য মোজতবা ইউসুফি এক বিবৃতিতে (শনিবার) দেশটিকে অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রশ্ন, ‘কোন যুক্তিতে আমরা এখনো এনপিটিতে আছি? আজই সিদ্ধান্ত নিয়ে চুক্তি ছাড়তে হবে।’
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নিলে তা ‘কৌশলগত ভুল’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের আজরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ও আরও তিনটি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। কয়েকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ হামলাকে ‘নাসর-২’ অভিযানের ২০তম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওমানের জলসীমা দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তিনি জনিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





