ইরানি জাহাজ আটক করল যুক্তরাষ্ট্র, বদলা নেওয়ার হুমকি তেহরানের

ওমান উপসাগরে গুলি চালিয়ে ইরানি জাহাজ আটক করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ছবি : আলজাজিরা
ওমান উপসাগরে শনিবার ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আটক করেছে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করার অভিযোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে তেহরান একে উল্লেখ করেছে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে। ঘটনাটিকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে জানিয়েছে নিন্দা। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীকে এর দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য, ‘তুস্কা’ নামে প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে যাচ্ছিল ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে। সামনে না এগোনোর জন্য ওমান উপসাগরে এটিকে সতর্কবার্তা দেয় সেন্টকম।
মার্কিন বাহিনীর অভিযোগ, ছয় ঘণ্টা ধরে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে জাহাজটি চালিয়ে গেছেন নাবিকরা। পরে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়েন্স জাহাজটিকে অচল করে দেওয়ার জন্য গুলি চালায় এর ইঞ্জিন রুমে। পরে মার্কিন মেরিন সেনারা জাহাজটিতে ঢুকে যায় এবং গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণ।
ওয়াশিংটনের মেরিন সেনারা তেহরানের জাহাজটি এমন সময় আটক করল, যখন সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বৈঠকে প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তেহরান ও ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতি মেনে মার্কিন বাহিনী ইরানে বোমা হামলা বন্ধ করলেও ট্রাম্প ইরানি বন্দরে ঘোষণা করেন সম্পূর্ণ নৌ অবরোধের।
মার্কিন বাহিনীর যুক্তি, জাহাজটি দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় গুলি চালিয়ে আটক করেছে মেরিন সেনারা।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তর এই হামলাকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ‘সমুদ্রপথে ডাকাতি’ এবং ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ হিসেবে করেছে আখ্যায়িত।
তেহরান সতর্ক করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী শিগগিরই এর জবাব দেবে।
কিছু ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর হতে পারে ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি। আবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হবে বাব আল-মানদেব প্রণালি।
জাহাজ আটকের ফলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা পড়েছে ঝুঁকির মুখে। ইরানি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া হলে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে তেহরান।
বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শেষ দিন। এর মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে আটকের ঘটনা সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

