খামেনির মরদেহ চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরালেয়ের যৌথ হামলায় আলী খামেনি চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন। এরপর থেকে সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ সংরক্ষণ করে রেখেছে ইরান। কিন্তু খামেনির মরদেহ এতদিন কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামি রীতিতে সাধারণত দ্রুত দাফনের কথা বলা হয়। দাফনের পরিবর্তে মরদেহ মমি করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেছেন, ‘ইসলামে মমি করা নিষিদ্ধ হওয়ায় খামেনির মরদেহ প্রায় নিশ্চিতভাবেই রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজ করা হয়েছে। এতে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হয় না।’
‘শিয়া আইনে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে দাফনে বিলম্ব এবং হিমায়িত করে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। আর একজন সর্বোচ্চ নেতার জন্য ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে এমন ছাড় বা অব্যাহতি পাওয়া খুবই সহজ’, যোগ করেন মোহাম্মদ ওমর।
ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, ইরানের ফরেনসিক মর্গে মাসের পর মাস মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। তাই চার মাস হিমাগারে রাখা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। এটিই মূলত ‘ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ড’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন এপিক ফিউরির আওতায় তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় খামেনি নিহত হন।
আলী খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মোহাম্মদ ওমর বলেছেন, ‘শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে হয়তো পুরো অবয়বের কোনো মরদেহ অবশিষ্ট নেই। খামেনি একটি বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে নিহত অন্যদের মরদেহ কয়েক সপ্তাহ পরে উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল।’
মোহাম্মদ ওমর বলছিলেন, সরকার যদি অক্ষত কোনো মরদেহ পেত, তবে তারা এভাবে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান বাতিল করত না। বারবার দাফনের স্থান পরিবর্তন করত না। এটি দেখে মনে হচ্ছে, খামেনির দেহের অবশিষ্টাংশ সরকার যেটুকু সংরক্ষণ করতে পেরেছে, সেটাতে শ্রদ্ধা জানানোই এখন মুখ্য।
এদিকে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আজ শুক্রবার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়েছে।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, দুই দিনব্যাপী সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহটি গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান প্রার্থনা কক্ষে রাখা হয়েছে। প্রথম দফায় বিদেশি কূটনীতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
সূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট













