খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়

ইরানের মোসাল্লা গ্র্যান্ড মসজিদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন। ছবি: এপি
শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডারের মরদেহ। আসন্ন জানাজার আগে মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনি নিহত হন। ওই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
আগামীকাল শনিবার (০৪ জুলাই) তার সরকারি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের প্রধান আলোচক তার মৃত্যুর প্রতিশোধের আহবান জানিয়ে ব্যাপক জনসমাগমের ডাক দিয়েছেন।
গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মরদেহ পৌঁছানোর পর শোকাহতদের কফিন বহন করতে দেখা যায়। কফিনে ইরানের জাতীয় পতাকা মোড়ানো ছিল। এটি দেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানস্থল।
ছবিতে আরও দেখা যায়, কালো পোশাক পরা মানুষজন শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। লাল ফুল ও সাদা সাজসজ্জার মাঝে কফিন রাখা হয়।
যুদ্ধ চলাকালে স্থগিত থাকা এই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের দেশগুলোও প্রতিনিধি পাঠাবে।
গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বৃহস্পতিবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আশপাশের এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ দূর থেকে প্রস্তুতি দেখছে।
এক শ্রমিক বলেছেন, আমরা ফুল লাগাচ্ছি এবং ঝোপঝাড়ে পানি দিচ্ছি আমাদের শহীদের বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য। সারা ইরান থেকে মানুষ আসবে। বিশাল ভিড় হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জনসমাগমের আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামিক ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় লিখতে সবাইকে উপস্থিত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, প্রতিশোধের দাবি পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে দিতে হবে।
৮৬ বছর বয়সে তেহরানের কেন্দ্রে তার কম্পাউন্ডে হামলায় তিনি নিহত হন।
গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাকে তিন দিন ধরে শায়িত রাখা হবে। সেখানে টাঙানো হয়েছে তার ছবি ও বক্তব্যসহ ব্যানার। নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহও রাখা হবে সেখানে।
বহু শহরে শোক অনুষ্ঠান
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জানাজায় আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ অংশ নিতে পারেন। এটি হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা।
এটিকে ইরানের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন গালিবাফ।
তেহরান, কওম এবং মাশহাদ শহরে পরবর্তী ধাপের অনুষ্ঠান হবে। এই সময় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। শহরের কেন্দ্র অংশে যান চলাচল সীমিত থাকবে।
তেহরানের আকাশসীমা শুক্রবার থেকে আংশিকভাবে বন্ধ এবং সোমবার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
পরবর্তী ধাপে মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নেওয়া হবে। এরপর ৯ জুলাই মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
তার ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতাবা গালিবাফ তেহরানের অনুষ্ঠানে থাকবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে অনেক মানুষ আসছেন।




