ইরানের হরমুজগানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি তেহরানের

হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ- গেটি ইমেজ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে নতুন করে তিনটি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার প্রদেশটির সিরিক শহরের আশপাশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর। গত কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
হরমুজগানের গভর্নর জানিয়েছেন, হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলার পর সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন চুক্তির প্রতিটি ধারাই অমান্য করেছে।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে একটি ‘বিকল্প রুট’ ব্যবহারের উৎসাহিত করছে, যা সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাঘাই আরও বলেছেন, ‘ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমরা কেবল আত্মরক্ষা করছি।’
এর আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিজেদের সব ধরনের প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি সামরিক রাডার স্থাপনা ধ্বংস করেছে। ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের জড়ো হওয়ার একটি স্থানে হামলা চালানোরও দাবি করেছে তারা। অপারেশন নাসর-২ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
আজ এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তাদের স্থল বাহিনী ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি রসদ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ড্রোন হামলা চালিয়ে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন রাখার একটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে স্থল বাহিনীর পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি।
তাদের অভিযোগ, সরাসরি যুদ্ধে সফল না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতাল, সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আলাদা আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।




