মার্কিন হামলায় পানি নেই ইরানের ২০ গ্রামে!
- তীব্র পানি সংকটে ইরানের দশ হাজার মানুষ
- দাউ দাউ করে জ্বলছে কুয়েতের ২ পানি শোধনাগার

মার্কিন হামলায় ধসে যাওয়া ইরানের পানি শোধানাগার। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ‘পানি যুদ্ধ’ বা ‘ওয়াটার ওয়ার’ ঘোষণা করা না হলেও এই অঞ্চলের সুপেয় পানির প্রধান উৎস—লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বা ডিস্যালাইনেশন শোধনাগারগুলো একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে।
এই বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে সর্বশেষ শুক্রবার রাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্পে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিশূণ্য অবস্থায় রয়েছেন।
শনিবার বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামজেহ পুর বলেছেন, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্পে মার্কিন হামলায় প্রায় দশ হাজার জনসংখ্যার ২০টি গ্রামে পানীয় জলের সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, হামলায় সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি লবণাক্ত পানি শোধন কেন্দ্রের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
তার ভাষ্য, মার্কিন হামলাগুলোকে ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী আক্রমণের অংশ।
এদিকে, শনিবার ইরানি হামলায় কুয়েতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার কেন্দ্রে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, একই ধরনের হামলার একদিন পর ইরান তাদের আরও একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ওই স্থাপনার একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরেকটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রে শত্রুপক্ষের হামলা চালানো হয়, যার ফলে কেন্দ্রটির একটি অংশে আগুন লেগে যায় এবং কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং কেন্দ্র, কর্মরত কর্মী ও বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দেওয়াসহ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি বিভাগের দলগুলো দমকল কর্মীদের নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় দেশের নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পিক-আওয়ারে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা




