সরকার পরিচালনায় কতটা প্রস্তুত বার্নহ্যাম?

ছবি- দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান ঘটেছে লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর থেকেই তার জাতীয় নেতৃত্বের পথ আরও মসৃণ। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও, এত অল্প সময়ে সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠদের দাবি, মেকারফিল্ডে প্রার্থী হওয়া ছিল তার জন্য বড় ঝুঁকি। তবে তিনি বিশ্বাস করতেন, সেখানে জয় পেলে দেশের যেকোনো জায়গায় ভোটারদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বড় জয় পান।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। এর কিছুদিন পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেই সময় লন্ডনে ফিরছিলেন বার্নহ্যাম। পরিস্থিতি এতটাই নাটকীয় হয়ে ওঠে যে সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার পর্যন্ত তার যাত্রাপথ অনুসরণ করছিল।
লন্ডনে পৌঁছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি এবং লেবার পার্টির সংসদীয় দলের সামনে উপস্থিত হন। তবে তার দল স্বীকার করছে, ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তারা আরও কিছুটা সময় আশা করেছিল। পরে অবশ্য তারা মনে করে, দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করতে পারত।
এরই মধ্যে ক্যাবিনেট সচিব ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বার্নহ্যাম। তার সহযোগীদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো বড় অপ্রত্যাশিত সমস্যা সামনে আসেনি। ম্যানচেস্টারে ‘নম্বর ১০ নর্থ’ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে নতুন মন্ত্রিসভা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা রয়েছে। যদিও বার্নহ্যামের সমর্থকদের বিশ্বাস, তিনি দেশের সমস্যাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে লেবার পার্টির কিছু সদস্যের আশঙ্কা, এত দ্রুত পরিবর্তনের ফলে নতুন সরকারের সামনে শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।





