দিল্লির আন্দোলনের আঁচ লন্ডনে
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচের পাশে প্রবাসী ভারতীয়রাও

লন্ডনের ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে শতাধিক প্রবাসী ভারতীয় বিক্ষোভ করেন
দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশি কড়াকড়ি, লাঠিচার্জ ও ধরপাকড়ের অভিযোগ ঘিরে এবার সরব হলেন ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়রাও। লন্ডনের ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে শতাধিক প্রবাসী ভারতীয় বিক্ষোভে সামিল হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। শুধু লন্ডনই নয়, একই দাবিতে ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো ও এডিনবরাতেও পালিত হয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচি।
মধ্য লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসের সামনে সোমবার সন্ধ্যায় জড়ো হন ছাত্র, গবেষক, কর্মজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের অভিযোগ, নীট পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশে যে ছাত্র আন্দোলন চলছে, তার জবাবে কেন্দ্র সরকার দমনমূলক পথ বেছে নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং অনশনরত ছাত্রদের সঙ্গে আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-ইউকের নেত্রী সোমিহা চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ভারতে অনশনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদীদের উপর লাগাতার পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করেন, মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও।
লন্ডনে কর্মরত ইউনিসেফের এক কর্মী ঈশিতা জানান, দিল্লিতে আন্দোলনরত তার বন্ধুদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তার কথায়, “আমি এখানে নিরাপদে প্রতিবাদ করতে পারছি। কিন্তু ভারতে থাকা বন্ধুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।” বিদেশের মাটিতে এই ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনকারীদের মানসিক শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাউথ এশিয়া সলিডারিটি গ্রুপ, এসএফআই-ইউকে এবং ইন্ডিয়া ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (জিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সোনম ওয়াংচুক এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত অন্যান্য অনশনকারীদের প্রতিও সংহতি জানানো হয়।
আয়োজকদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরীক্ষাপদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী ২৬ জুলাই একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে লিডসেও।




