ওবামার দাবির পর এলিয়েন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ঘোষণা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
এলিয়েন বা ভীনগ্রহের প্রাণী নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই। অনেক আগে থেকেই জল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র গোপনে এলিয়েন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সম্প্রতি এ জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি দাবি করেছেন, এলিয়েন বাস্তব। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমনই ইঙ্গিত দিলেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ‘এলিয়েন ও ভিনগ্রহী প্রাণ সম্পর্কিত সরকারি নথি শনাক্ত ও প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করতে’ নির্দেশ দেবেন
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তোলেন, যখন ওবামা গত সপ্তাহে এক পডকাস্টে বলেন ‘এলিয়েন বাস্তব’।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তার এমনটা করার কথা নয়,’ এবং যোগ করেন, ‘তিনি বড় ভুল করেছেন।’
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন কি না, ট্রাম্প জবাব দেন, ‘আমি জানি না তারা বাস্তব কি না।’
গত শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা পডকাস্ট সঞ্চালক ব্রায়ান টাইলার কোহেনকে বলেন, তিনি মনে করেন এলিয়েন বাস্তব।
ওবামা বলেন, ‘তারা বাস্তব, কিন্তু আমি তাদের দেখিনি, এবং তাদের এরিয়া ৫১-এ রাখা হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নেই, যদি না এটি কোনো বিশাল ষড়যন্ত্র হয় এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়ে থাকে।’
মন্তব্যটি শিরোনাম হওয়ার পর ওবামা স্পষ্ট করেন, মহাবিশ্বের ব্যাপকতার কারণে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব পরিসংখ্যানগতভাবে সম্ভাব্য বলে তিনি মনে করেন।
ইনস্টাগ্রামে পরবর্তী এক পোস্টে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী ওবামা লেখেন, ‘আমার প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে ভিনগ্রহীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে—এমন কোনো প্রমাণ আমি দেখিনি। সত্যিই না!’
পডকাস্টে দ্রুত প্রশ্নোত্তরের একটি পর্বে ওবামার প্রাথমিক মন্তব্যটি করা হয়েছিল।
তিনি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কোনো গোপন তথ্যের ওপর নির্ভর করেছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে বলেন, অনেক মানুষ এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন না এবং ‘এ নিয়ে তার কোনো মতামত নেই।’
তবে কয়েক ঘণ্টা পর ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ব্যাপক আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে’ তিনি ‘এলিয়েন ও ভিনগ্রহী প্রাণ, অশনাক্ত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি), অশনাক্ত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) এবং এসব জটিল কিন্তু অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য’ প্রকাশের উদ্যোগ নেবেন।
২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভিনগ্রহী প্রাণের মুখোমুখি হয়েছে—এমন ‘কোনো প্রমাণ নেই’, এবং অধিকাংশ ইউএফও দেখার ঘটনা ছিল সাধারণ বস্তুর ভুল সনাক্তকরণ।

