প্রধানমন্ত্রীর ‘বিস্কুট দৌড়’ ব্রিটেনে
- কে হচ্ছেন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন বাসিন্দা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ‘বিস্কুট দৌড়ে’ নামছে ব্রিটেন। গত ছয় বছরে পাঁচ প্রধানমন্ত্রী দেখেছে দেশটি। এত ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী বদলের ঘটনা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা শিশুদের বিস্কুট দৌড়ের ঘটনার মতোই মনে করা হচ্ছে। সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে নিজ দল লেবার পার্টিকে নির্দেশ দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। তারপর থেকেই আগ্রহী প্রার্থীরাও শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ।
এদিন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্টারমার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তার এ ঘোষণার
পরপরই দেশব্যাপী জোর আলোচনা শুরু হয়েছে পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে। গত সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নারসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন আলোচনায়।
অ্যান্ডি বার্নহাম: লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি অ্যান্ডি বার্নহাম। জনমত জরিপ বলছে, সাধারণ ভোটারদের কাছেও তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বার্নহাম। তার ঝুলিতে দীর্ঘকালের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এজন্য তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবেও পরিচিত। সবশেষ গত শুক্রবার তিনি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় পান। এর মাধ্যমে লেবার পার্টিতে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছেন বার্নহাম। প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের জন্য তার অন্তত ৮১ এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। শুক্রবারে জয়ের মাধ্যমে তিনি পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্নহাম লি আসনের এমপি ছিলেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী রায়নারসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন আলোচনায়
বার্নহাম এর আগে আরও দুবার দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। এর মধ্যে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ডের কাছে এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এক্সে সোমবার তিনি লেখেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে (প্রার্থী হিসেবে) তুলে ধরব।’
ওয়েস স্ট্রিটিং: ২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস স্ট্রিটিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত মে মাসে এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এ দায়িত্ব পালনের আগে ওয়েস তিন বছর বিরোধী দলে থাকাকালীন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
স্ট্রিটিং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের প্রেসিডেন্ট এবং লন্ডনের কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমান তাকে লেবার পার্টির বাকপটু ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনএইচএসের ওয়েটিং লিস্ট বা চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে আনা তার অন্যতম সাফল্য।
দলের মধ্য ও ডানপন্থী এমপিদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে তার। তবে দলের ভেতর তার ‘ডানপন্থী’ ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে।
অ্যাঞ্জেলা রায়নার: অ্যাঞ্জেলা রায়নার যুক্তরাজ্যের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবীদ। রায়নার অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। রাজনীতিতে তার এ উত্থান অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।
একজন কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ‘ইউনিসন’ ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন রায়নার। এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি ২০১৫ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অ্যাশটন-আন্ডার-লাইন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময়ে রায়নার ছায়া সরকারের আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গৃহনির্মাণ বৃদ্ধি ও ভাড়াটেদের অধিকার আমূল সংস্কারের ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন তিনি।
২০২৫ সালে রায়নার নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে একটি বাড়ি কেনায় যথাযথ ট্যাক্স পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে। এরপরই পদত্যাগ করেন তিনি।
অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী: যুক্তরাজ্যের এসব হেভিওয়েট নেতা ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও। যদিও তিনি এ সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিবিসিকে বললেন, আমার জন্য সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও আলোচনায় আছে। তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে সাধারণ সদস্যদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি।




