সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৪, অধিকাংশই নারী

সংগৃহীত ছবি
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের সীমান্ত শহর আল-তিনায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন, যাদের অধিকাংশই নারী। হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে (আরএসএফ) দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সোমবার আল-তিনা বাজারে খাবার ও চা বিক্রি করা নারীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে চালানো হয় এ হামলা। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘মৃতদের দাফন করতে গিয়ে স্থানীয়রা বিস্ফোরণস্থলে ১৪টি মরদেহ পেয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নারী।’
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে এএফপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুদানের এক সরকারি কর্মকর্তাও। তিনি জানান, হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে কাজ চলছে।
আল তিনা শহরটি চাদের সীমান্তঘেঁষা উত্তর দারফুর অঞ্চলে অবস্থিত। চলতি বছর এলাকাটি বারবার আরএসএফের হামলার মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটিতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সহিংসতার কারণে হাজারো মানুষ ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে চাদে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে বাজারে হামলার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। হতাহতের নির্ভুল সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হলেও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর ধারণা, এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহত হয়েছেন দুই লাখের বেশি মানুষ।
গত বছর আরএসএফ দারফুর অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় এখনো সেনাবাহিনীর পক্ষে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান রয়েছে।
যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় ড্রোন হামলা বড় কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে। উভয় পক্ষই সামনের সারিতে সেনা মোতায়েন কমিয়ে ড্রোন ব্যবহার করে চালাচ্ছে দূরবর্তী হামলা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ৮৮০ জন বেসামরিক মানুষ।
চার বছরে গড়ানো এই যুদ্ধকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু উত্তর দারফুরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ রয়েছেন চরম খাদ্য সংকটে।






