জাতিসংঘের প্রতিবেদন
বিশ্বের প্রতি তিনজনে একজনের নেই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য !

এআএ নির্মিত ছবি
বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনজনের একজন এখনও স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ এমন একটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা গ্রহণ করতে পারছেন না, যা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়। গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যকর খাবারের গড় ব্যয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং কৃষি উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক তহবিল (আইএফএডি) যৌথভাবে প্রকাশিত স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে প্রতিদিন গড়ে ৪ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার (ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী) প্রয়োজন। অথচ বিশ্বের চরম দারিদ্র্যসীমা প্রতিদিন ৩ ডলারেরও নিচে। ফলে কোটি কোটি মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পুষ্টিকর খাদ্য।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৮ শতাংশে, অর্থাৎ প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখে নেমে এসেছে। তবে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে ক্ষুধা নির্মূলের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-২) অর্জন এখনো অনেক দূরের লক্ষ্য।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি আফ্রিকায়। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ শতাংশ, স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল অবকাঠামো এবং খাদ্যের উচ্চমূল্য এ সংকটকে আরও গভীর করেছে। এ কারণে প্রথমবারের মতো ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যায় আফ্রিকা এশিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে সার, জ্বালানি ও খাদ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি পড়বে।
প্রতিবেদনে সরকারগুলোর প্রতি কৃষি, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা, গবেষণা ও অবকাঠামোয় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু ক্যালরিসমৃদ্ধ নয়, পুষ্টিকর খাবার সাশ্রয়ী দামে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নীতিগত পরিবর্তনের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ক্ষুধা ও অপুষ্টি কমানোর সাম্প্রতিক অগ্রগতি আবারও থমকে যেতে পারে।




