মৃত্যুভোজ না দেওয়ায় রাজস্থানে ‘একঘরে’ ৪০ পরিবার

রাজস্থানের সিরোহি জেলার মাণ্ডওয়ারিয়া গ্রামে একটি পুরনো সামাজিক রীতিকে ঘিরে এমনই তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে।
একদিকে ঘিয়ের গন্ধে ভাজা মালপোয়া, অন্যদিকে শোকের বাড়িতে ঋণের বোঝা। রাজস্থানের সিরোহি জেলার মাণ্ডওয়ারিয়া গ্রামে একটি পুরনো সামাজিক রীতিকে ঘিরে এমনই তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে একই সম্প্রদায়ের দুই অংশের মধ্যে কথা বলা-চলা বন্ধ। অভিযোগ, মৃত্যুভোজের আয়োজন করতে অস্বীকার করলেই চাপ, জরিমানা এবং সামাজিক বয়কটের মুখে পড়েছেন ৪০টি পরিবার।
বিষয়টি নিয়ে গত জুনে পুলিশ-প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। গত শুক্রবার দ্য প্রিন্টের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে গোটা গ্রামকে খাওয়ানোর রীতি পালন করতে হয়। সেই ‘মৃত্যুভোজ’ এর জন্য বিপুল অর্থ খরচ হয়। কোনও পরিবার সেই আয়োজন করতে না চাইলে কিংবা স্থানীয় মাতব্বরদের নির্ধারিত জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কট চাপিয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার দাবি করেছে, তারা বর্তমানে এমনই ‘হুক্কা-পানি বন্ধ’-এর শিকার। অর্থাৎ সামাজিক ভাবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। শুধু জরিমানাতেই শেষ নয়। অভিযোগ, শাস্তি হিসেবে আরও একটি ভোজ দিতে বলা হয়। সেই ভোজের অন্যতম পদ মালপোয়া, স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘ঝীম’ বলা হয়।
বিরোধটি নতুন নয়। গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দু’বছর ধরে এই টানাপড়েন চলছে। তবে চলতি বছরের জুনে তা আরও প্রকাশ্যে আসে। বয়কটের শিকার পরিবারগুলি পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, পুরনো সামাজিক রীতির নামে তাদের উপর আর্থিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
অথচ এই মৃত্যুভোজ প্রথার বিরুদ্ধেই রাজস্থানে ১৯৬০ সালে আইন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, মৃত্যুর পর শোকাহত পরিবারকে লোকদেখানো সামাজিক ভোজের আর্থিক বোঝা থেকে রক্ষা করা। কিন্তু মাণ্ডওয়ারিয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, আইন থাকা সত্ত্বেও বহু জায়গায় সামাজিক রীতির শিকড় কতটা গভীরে।
তবে এবার সেই প্রথার বিরুদ্ধে পাল্টা আওয়াজও উঠেছে। বয়কটের শিকার পরিবারগুলির একাংশ আড়ম্বরপূর্ণ ভোজের বদলে সাধারণ ডাল ও রুটি খাওয়ানোর পক্ষে। কেউ পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন, কেউ আদালতের পথ ধরেছেন।






