ধর্মান্তকরণ রোধে নতুন আইনের ঘোষণা শুভেন্দুর

সংগৃহীত ছবি
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা, ধর্মান্তকরণ রোধে নতুন আইন আনা এবং তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই বার্তা দেন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলার মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তার হুঁশিয়ারি, বেআইনি অনুপ্রবেশ, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। তিনি জানালেন, সরকার ভবিষ্যতে এ-সংক্রান্ত আইন আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন, চৈতন্যদেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের কোনো স্থান নেই। তার দাবি, যারা বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন বলে প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘জমি জিহাদ’ শব্দবন্ধের কোনো স্বীকৃত আইনি সংজ্ঞা নেই। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করে মুসলিম সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হয়।
মানবাধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর বক্তব্য, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক বা জমি কেনাবেচার মতো বিষয়কে ধর্মীয় রং দিলে সমাজে বিভাজন আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, কোনো অপরাধ ঘটলে দেশের বিদ্যমান আইনেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। আলাদা করে ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে আনার প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’ বিরোধী আইন বা ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব আইনের প্রয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে আন্তধর্মীয় দম্পতি, বিশেষ করে মুসলিম যুবক ও তাদের পরিবার প্রশাসনিক নজরদারি ও সামাজিক চাপে পড়েছেন। যদিও বিজেপির দাবি, এই আইন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; প্রতারণা বা জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ রোধ করাই এর উদ্দেশ্য।
এদিনের বক্তৃতায় শুভেন্দু অধিকারী আবারও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। ইউসিসি বলতে এমন একটি ব্যবস্থা বোঝানো হয়, যেখানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ ও পারিবারিক আইন ধর্মভেদে আলাদা না হয়ে সবার জন্য এক হবে।
কিন্তু এই প্রস্তাব নিয়েও দেশ জুড়ে বিতর্ক রয়েছে। মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী দলগুলির একাংশের আশঙ্কা, ইউসিসি কার্যকর হলে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের কিছু স্বতন্ত্র বিধান বিলুপ্ত হতে পারে। তাদের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, সব নাগরিকের জন্য একই আইন থাকলে আইনের চোখে সমতা আরও শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে ইউসিসি, সিএএ, অনুপ্রবেশ এবং ধর্মান্তকরণ ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




