আম আদমিতে ‘বিজেপির গুপ্ত’ ছিলেন রাঘব চাড্ডা!

রবীশ কুমার ও রাঘব চাড্ডা
‘গুপ্ত’ ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তাল বাংলাদেশের রাজনীতি। এরই মধ্যে ভারতের রাজনীতিতেও একই ইস্যুর ইঙ্গিত দিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক রবীশ কুমার। রাঘব চাড্ডার আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। এ ইস্যু ঘিরে সামনে এসেছে তার অতীতের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার কমে যাওয়ার প্রবণতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য করেছেন রবীশ কুমার।
ভিডিওতে রবীশ কুমার ইঙ্গিত দেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার চাপ অনেক সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করে, যদিও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয় না। রাঘব চাড্ডার ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে— যেখানে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তার রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অর্থাৎ তিনি ইঙ্গিত করছেন, আম আদমিতে ‘বিজেপির গুপ্ত’ হিসেবে ছিলেন রাঘব।
তিনি রাঘব চাড্ডার একটি পুরনো মন্তব্য তুলে ধরে তার সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের অসঙ্গতি তুলে ধরেন। আগে রাঘব দাবি করেছিলেন, অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন দল পাল্টানো রোধের বদলে তা সহজ করছে এবং ‘কৌশলগতভাবে’ ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই আরও ছয়জন সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দলত্যাগ করেন— যা তার আগের অবস্থানের সঙ্গে তৈরি করেছে স্পষ্ট বিরোধ।
২০ লাখ ফলোয়ার কমেছে রাঘবের?
রাঘবের ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ার হঠাৎ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ফলোয়ার কমেছে তার। তবে এ বিষয়টি রাজনৈতিক সমর্থনের সূচক হিসেবে মানতে নারাজ রবীশ কুমার। তার মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার সংখ্যা কোনোভাবেই ভোট বা মাঠের রাজনৈতিক শক্তির নির্ভরযোগ্য প্রতিফলন নয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাসহ অনেক রাজনৈতিক নেতার ফলোয়ার তুলনামূলক কম। তবে মাঠে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি। তাই ফলোয়ার সংখ্যা দিয়ে জনসমর্থন নির্ধারণ জন্ম দিতে পারে নতুন বিভ্রান্তির।
‘আনফলো অভিযান’ আদৌ রাজনৈতিক প্রতিবাদের চিত্র কিনা, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ব্যবহারকারীরা কেন আগে ফলো করেছিলেন এবং এখন কেন আনফলো করছেন— এর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বরং তিনি এটিকে সোশ্যাল মিডিয়ার অস্থির ও কৃত্রিম আচরণের অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ‘বট’ কার্যক্রমের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রাঘবের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যসভায় সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় ইস্যুর দিকে বেশি ঝোঁকেন রাঘব এবং সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক ইমেজ গড়ে তোলেন। ফলে তিনি ধীরে ধীরে ‘নেতা থেকে ইনফ্লুয়েন্সারে’ পরিণত হয়েছেন।
এছাড়া দলীয় বিরোধ, গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সই না করা এবং পদ থেকে অপসারণ— এসব ঘটনাও তার দলত্যাগের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দল ছাড়ার পরও রাজ্যসভার সদস্যপদ ধরে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক রবীশ কুমার।
পুরো ঘটনাটি শুধু ‘ব্যক্তিগত দলবদল’ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখছেন এই প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন— বিজেপির মতো একটি বৃহত্তম ও ক্ষমতাসীন দল কেন অন্য দল থেকে নেতা টেনে নিচ্ছে এবং তাদের দলের ভেতরের গণতন্ত্রটা আসলে কেমন?




