সোশ্যালে এআইয়ের ভুয়া নাগরিক
দেশে দেশে গণতন্ত্র হাইজ্যাক

ফাইল ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উপকারী দিক ছাপিয়ে এবার উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য। সাম্প্রতিক সময়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুবহু মানুষের মতো আচরণ করতে পারে এআই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচন কুক্ষিগত করছে। অন্যকে প্রভাবিত করে ঐকমত্য তৈরিতেও।
রাষ্ট্রকাঠামো-বিধ্বংসী এএআইয়ের এ পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র হাইজ্যাক’ তকমা দেওয়া হয়েছে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন ওই গবেষণায়। ২০১৭ সালের ২৮ থেকে ৭০টি দেশের নির্বাচন হাইজ্যাক করেছে এআই। ফিলিপাইন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে ব্রাজিল এবং আয়ারল্যান্ডেও একইভাবে সফল হয়েছে এআই।
সবচেয়ে বড় সক্ষমতা হলো, একসঙ্গে অনেকগুলো দেশ নিয়ে কাজ করতে পারে এআই। নির্দেশিত দেশগুলোর রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্টে দিতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামে। সচল হয়ে ওঠে বহু এজেন্টের ফ্রেমওয়ার্ক। শুরু হয় কার্যক্রম। এলএলএম সিস্টেম নেটওয়ার্ক। ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক’ থাকে। সেখান থেকেই নির্দেশ পাঠানো হয় এলএলএম এজেন্টদের (গবেষণায় এই এজেন্টদের ‘ভুয়া নাগরিক’ বলেছেন বিশেষজ্ঞরা)।
প্রতিটি এজেন্ট স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। জনগণের পোস্ট ফিল্টার করে, নকল করে লেখার ধরন। পরে পরিস্থিতি মোতাবেক সাজানো-গোছানো ভিন্ন মতগুলো নিখুঁতভাবে ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর ঝড়ের বেগে চলে এজেন্টদের পরবর্তী পদক্ষেপের প্লট নির্মাণ। গণতান্ত্রিক ঐকমত্য তৈরি করে ভুয়া চিত্র দেখায়। নির্দেশনা মোতাবেক বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয় রাজনৈতিক আলোচনা। কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই করে স্বায়ত্তশাসিত এই ‘এআই ঝাঁক’ বা এলএলএম এজেন্ট। অনলাইন কমিউনিটিতে যোগ দেয়। ব্যাপক সমর্থনের চেহারা তৈরি করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের চারপাশে।
আক্রমণের ক্ষেত্র শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। জনমত জরিপ ব্যবস্থা, অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় সরকার প্রতিক্রিয়া পোর্টাল এবং কমিউনিটি ফোরাম— অনায়াসে সবখানেই ঢুকে যায় এআই। সাধারণ একটি বিষয়েও ব্যাপক তৃণমূল সমর্থন দেখাতে পারে।
কীভাবে প্রভাব ফেলে গণতন্ত্রে : রাজনৈতিক নেতাদের কণ্ঠ বা ছবি নকল করে তৈরি করে ভুয়া অডিও-ভিডিও (ডিপফেক), যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। যেমন : মার্কিন নির্বাচনে জো বাইডেনের কণ্ঠে রোবোকল পাঠিয়ে ভোটারদের ভোট না দিতে উৎসাহিত করার ঘটনা ঘটেছিল।
টার্গেটেড ক্যাম্পেইন : এআই ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হয় ভোটারদের পছন্দ-অপছন্দ। খুব সুনির্দিষ্টভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় (নির্ধারিত) রাজনৈতিক বার্তা বা বিজ্ঞাপন, যা সাধারণ মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে সহায়ক।
প্রতিরোধে পদক্ষেপ : এই প্রযুক্তি যাতে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, সেদিকে নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমন্বিত সেল গঠনের কথাও ভাবছে বাংলাদেশ।





