৫ বছর পর বিলিয়নিয়ার ক্লাবের সদস্য হবে কত, গবেষণা কী বলছে?

লন্ডনের টেমস নদীতে একটি বড় বিলাসবহুল জাহাজ নোঙর করা আছে। আগামী ৫ বছরে বিশ্বে ধনীদের সংখ্যা প্রায় ২৫% বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের আনাচে কানাচে এখন টাকার খেলা চলছে। সাধারণ মানুষ যখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় আছে, তখন একদল মানুষ যেন টাকার গদিতে ঘুমাচ্ছেন। আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘নাইট ফ্র্যাঙ্ক’ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ৪ হাজার ছুঁইছুঁই করবে। ধনীরা এখন রকেটের গতিতে বাড়িয়ে চলেছেন সম্পদ।
বর্তমানে সারা বিশ্বে ৩,১১০ জন বিলিয়নেয়ার বা বড় লোক আছেন। আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা আরও ২৫ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ২০৩১ সাল নাগাদ পৃথিবীতে মোট ৩,৯১৫ জন ব্যক্তি থাকবেন যাদের সম্পদের হিসাব শুনে আপনার মাথা ঘুরে যাবে। শুধু বিলিয়নেয়ার নয়, মাল্টি-মিলিয়নেয়ার যারা, তাদের সংখ্যাও গত কয়েক বছরে বেড়ে গেছে ৩০০ শতাংশ।
এখন এই পরিস্থিতিতে সব থেকে বড় প্রশ্ন হলো, কেন মানুষ এত দ্রুত বড়লোক হচ্ছে? নাইট ফ্র্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ লিয়াম বেইলি জানান, এর পেছনে আসল জাদুকর হলো আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আজকাল ব্যবসা বড় করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। এআই এর কল্যাণে মানুষ এখন চোখের পলকে বড় বড় সব কোম্পানি গড়ে তুলছে এবং রাতারাতি চলে যাচ্ছে বিশাল অংকের মালিক বনে।
সবচেয়ে বেশি অবাক করা খবর হলো সৌদি আরবকে নিয়ে। তেলের এই দেশে ধনকুবেরের সংখ্যা এখনকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে। ২০২৬ সালে যেখানে মাত্র ২৩ জন বিলিয়নেয়ার ছিলেন, ২০৩১ সালে সেখানে অন্তত ৬৫ জন কোটিপতি থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া পোল্যান্ড আর সুইডেনেও ধনীদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
একদিকে কিছু মানুষ টাকার পাহাড়ে চড়ছেন, অন্যদিকে গরিবরা আরও গরিব হচ্ছেন। গত বছরের এক রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের মাত্র ৬০ হাজার মানুষ বা মাত্র ০.০০১ শতাংশ ধনীর হাতে যে টাকা আছে, তা পৃথিবীর অর্ধেক গরিব মানুষের মোট সম্পদের তিন গুণেরও বেশি। এই বৈষম্য দেখে এখন বিশ্বজুড়ে দাবি উঠছে যেন ধনীদের ওপর বাড়ানো হয় ট্যাক্স।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ হলেন টেসলা আর স্পেসএক্স এর মালিক ইলন মাস্ক। তার নিট সম্পদ প্রায় ৭৮৫ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে আছেন গুগলের ল্যারি পেজ এবং তৃতীয় স্থানে আছেন আমাজনের জেফ বেজোস। এই তিনজনের যে পরিমাণ টাকা আছে, তা দিয়ে কিনে ফেলা সম্ভব বিশ্বের অনেক ছোট ছোট দেশ।
এক সময় ব্রিটেন ছিল ধনীদের স্বর্গ। কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে। গত এক বছরে ১৫৬ জন বিলিয়নেয়ার ব্রিটেন ছেড়ে চলে গেছেন অন্য দেশে। সেখানে ধনীদের ওপর কড়া নিয়ম আর ট্যাক্স বসানোর কারণে তারা এখন সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের মতো নিরাপদ আর শান্ত জায়গা খুঁজছেন। ধনীরা এখন এমন শহরে থাকতে চান যেখানে তাদের ব্যবসা আর পরিবার থাকবে নিরাপদ।
এখন উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি বিলিয়নেয়ার থাকলেও দিন দিন এশিয়ার পাল্লা ভারী হচ্ছে। নাইট ফ্র্যাঙ্ক বলছে, ২০৩১ সাল নাগাদ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল উত্তর আমেরিকাকে পিছে ফেলে দেবে। তখন বিশ্বের প্রায় ৩৮ শতাংশ ধনীই থাকবেন এশিয়ায়। অর্থাৎ ভবিষ্যতে দুনিয়ার টাকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে এই অঞ্চলের মানুষের হাতেই।



