ইরান যুদ্ধের ধাক্কা লন্ডনে, ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় চলতি বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের ধাক্কা লাগতে পারে এবং দেশটি মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (নাইসর) বলেছে, সবচেয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ বছর ও আগামী বছরে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর হবে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ০.৫ শতাংশ কমিয়ে ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ০.৩ শতাংশ কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়েছে।
নাইসরের পরিচালক ডেভিড আইকম্যান বলেছেন, ‘এটি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সরকারের লক্ষ্যকে বড় ধরনের আঘাত।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি ধাক্কার প্রতি যুক্তরাজ্য এখনো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হলেও উচ্চ জ্বালানি মূল্য গৃহস্থালি ব্যয় বাড়াবে, ব্যবসার খরচ বাড়াবে এবং কয়েক মাস আগের তুলনায় অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে যাবে।’
নাইসর সতর্ক করেছে, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলারে ওঠে, তবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটি মন্দায় পড়ে যেতে পারে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ১১১ ডলার।
এ ধরনের ‘গুরুতর কিন্তু সম্ভাব্য’ পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে; যা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে ১৯৯২ সালের ‘ব্ল্যাক ওয়েডনেসডে’র পর সবচেয়ে বড় একক সুদহার বৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতির পূর্বাভাসেও নাইসর মনে করছে, আগামী জুলাইয়ে সুদহার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। যদিও বাজারে ধারণা, চলতি সপ্তাহে সুদহার ৩.৭৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আগামী দশকের মধ্যে সরকারি ঋণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়তে পারে, যা অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের আর্থিক সীমারেখা প্রায় শেষ করে দেবে।
নাইসরের উপপরিচালক স্টিফেন মিলার্ড বলেছেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আগামী দুই বছরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারে নেমে আসবে— এমন ধারণা ‘ক্রমেই অতিরিক্ত আশাবাদী’ মনে হচ্ছে।’
এদিকে রিভস সংসদে বলেছেন, তিনি ব্যাপক সহায়তার পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। তার মতে, আগের সরকারের ‘সর্বজনীন সহায়তা’ ১০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় বাড়িয়ে সুদহার, মুদ্রাস্ফীতি ও করের চাপ বাড়িয়েছে।



