ওরবানকে হারালেও নতুন বন্ধু পেতে যাচ্ছেন পুতিন

ভোটগ্রহণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী রুমেন রাদেভ। ছবি : এএফপি
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অবস্থিত বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সংসদ নির্বাচন। রোববারের ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেশ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি।
সোমবার ভোরে প্রকাশিত প্রাথমিক সরকারি ফলাফল অনুযায়ী এগিয়ে রয়েছে রুমেন রাদেভের মধ্য-বামপন্থি প্রগ্রেসিভ পার্টি। ৩২ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৪৪.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে দলটি।
ডিসেম্বরে গণআন্দোলনে পূর্ববর্তী রক্ষণশীল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রোববার দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ নির্বাচন। বুলগেরিয়ার জনগণ ৫ বছরের মধ্যে অষ্টম বারের মতো দিয়েছেন ভোট।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে সোফিয়াভিত্তিক আলফা রিসার্চ পরিচালিত বুথ ফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাদেবের দল ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে হয়েছে জয়ী। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভের জিইআরবি ১২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে হয়েছে দ্বিতীয়।
ফেসবুকে পোস্টে বরিসভ লিখেছেন, ‘নির্বাচন ঠিক করে দেয় কে প্রথম হবে, কিন্তু আলোচনাই ঠিক করে দেবে শাসন করবে কে।’
বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, সংস্কারপন্থি ‘উই কন্টিনিউ দ্য চেঞ্জ-ডেমোক্রেটিক বুলগেরিয়া’ (পিপি-ডিবি) জোট পেতে যাচ্ছে তৃতীয় স্থান। দলটির সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন বা কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এগিয়ে থাকা রুমেন রাদেভ।
সমীক্ষা প্রকাশের পর রাদেভ সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘আবার যাতে নির্বাচনে যেতে না হয়, তার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করব আমরা। পুনর্নির্বাচন বুলগেরিয়ার জন্য ধ্বংসাত্মক।’
তার ভাষ্য, ‘বুলগেরিয়া যাতে একটি স্থিতিশীল সরকার পায়, সেজন্য আমরা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করতে প্রস্তুত।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলকান এই দেশটির সংসদে বেশিরভাগ কোয়ালিশন সরকার দেখা গেছে এবং ২০২১ সাল থেকে কোনো জোটই এক বছরের বেশি টিকতে পারেনি।
নয় বছর প্রেসিডেন্ট থাকার পর জানুয়ারিতে পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাদেভ। পরে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দেন বামপন্থি ও ইউরোপের সঙ্গে তুলনামূলক কম সম্পর্ক রাখা রাদেভ।
বুলগেরিয়ায় ডিসেম্বরে হওয়া দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। যেখানে মূলত তরুণদের নেতৃত্বে রাস্তায় নামেন লাখ লাখ মানুষ। এতে পতন হয় রক্ষণশীল সরকারের। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ‘অলিগার্কিক শাসন মডেল’ থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাদেভ।
বহু বছর ধরেই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে আসছিলেন রাদেভ। রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনাও করেছেন তিনি।
মার্চ মাসে বুলগেরিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিরও বিরোধিতা করেন তিনি। যেসব কারণে সমালোচকরা অতিরিক্ত রুশপন্থি হিসেবে অভিযুক্ত করেন তাকে।
কিছুদিন আগে বলকান অঞ্চলের আরেক দেশ হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। সেখানে অবশ্য রুশপন্থি ভিক্টর ওরবান ইউরোপিয়ান ইউনিয়নপন্থি পিটার ম্যাগিয়ারের কাছে হায়িয়েছেন তার ১৬ বছরের ক্ষমতা।
ওরবানের পরাজয়ের পর ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতায় পুতিনের জন্য আপাতত স্বস্তিদায়ক হতে পারে রাদেভের বিজয়।

