ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম মুসলিম প্রার্থী আনাস কা-জিব

ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠক আনাস কা-জিব- গেটি ইমেজ
ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির অতিবাম রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ফরাসি রেলকর্মী ও প্রখ্যাত শ্রমিক সংগঠক আনাস কাজিব। মরক্কান বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম প্রার্থী হিসেবে তিনি ট্রটস্কিস্ট রাজনৈতিক সংগঠন ‘রেভল্যুশিওঁ পারমানঁত’–এর হয়ে আসন্ন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের রাজনৈতিক প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রার্থীতা হবে শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও দাবির প্রতিনিধিত্ব।’
নিজের এই রাজনৈতিক উদ্যোগকে একটি শ্রমিকভিত্তিক, কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী প্রার্থীতা হিসেবে অভিহিত করেন ৩৯ বছর বয়সী এই সংগঠক। আনাস কাজিব দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের রেলখাতের শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি দেশটির সুপরিচিত শ্রমিক ইউনিয়ন সুড রেলের একজন সক্রিয় সদস্য। অভিবাসী শ্রমজীবী অধ্যুষিত সার্সেল এলাকার বাসিন্দা তিনি।
শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি ফরাসি গণমাধ্যমেও তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। একসময় তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন ও রেডিও টক শো ‘লে গ্রঁদ গ্যুল’–এ নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরতেন। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানে তিনি নিজেকে বর্ণবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং উপনিবেশবাদবিরোধী চিন্তার অনুসারী হিসেবে দাবি করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি রাষ্ট্রে শ্রমিক ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং তাদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন তিনি। তবে তার এই রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ নিয়ে ফ্রান্সে বিস্তর বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর তিনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করায় নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ আনা হয় এবং বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি মামলায় তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আগামী ২৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। অবশ্য আনাস কাজিব তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এর আগে ২০২২ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কাজিব, তবে সেবার তিনি ব্যর্থ হন। ফ্রান্সের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ৫০০ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির লিখিত সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারায় সে দফায় তার আর চূড়ান্ত প্রার্থী হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার তার দল ও সংগঠন দাবি করছে, তারা বিগত সময়ের তুলনায় এবার অনেক বেশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের অতিবাম রাজনীতিতে বর্তমানে আরও এক পরিচিত মুখ নাতালি আর্তো, যিনি লুত ওভ্রিয়ে দলের নিয়মিত প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরাসি বাম রাজনীতি বর্তমানে তীব্রভাবে বিভক্ত ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে ছোট ছোট বিপ্লবী দলগুলোর পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বড় কোনো প্রভাব বিস্তার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে আনাস কাজিবের এই প্রার্থীতার ঘোষণা ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ শ্রমিক রাজনীতি, অভিবাসন ইস্যু এবং অতিবাম আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল।




