জেলায় জেলায় ঘুরে গাছ লাগান নাবিল

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চালাপাড়ায় রাস্তার পাশে নিজের লাগানো গাছ পরিচর্যা করছেন নাবিল ইসলাম- আগামীর সময়
ছোটবেলায় বিভিন্ন স্থানে তালের আঁটি রোপণ করতে যেতেন দাদির হাত ধরে। সেই থেকে শুরু। এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় গাছ লাগান বগুড়ার নাবিল ইসলাম।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার দীঘলকান্দি গ্রামের নাবিল ইসলাম (৪৫) পেশায় শিক্ষক। কাজীপুর সোনামুখী সিনিয়র ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত তিনি। পেশার বাইরে তার ধ্যানজ্ঞান গাছকে ঘিরে।
নিজ এলাকায় ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে কেটেছে দুই দশক। পরে ২০১০ সালে মায়ের নামে রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন নাবিল। এরপর থেকে এই সংগঠনের ব্যানারে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ করছেন তিনি।
তার সংগঠনের পক্ষ থেকে মূলত তাল ও খেজুরগাছের বীজ বপন করা হয়। অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি রেলপথের দুপাশেও গাছ লাগান নাবিল। চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি এক ক্যারেট খেজুরবীজ নিয়ে সান্তাহার রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে ছুটেছিলেন লালমনিরহাটের উদ্দেশে। পুরো যাত্রাপথে তিনি বীজ ছিটিয়ে গেছেন। এভাবে সময় পেলেই তাল ও খেজুরবীজ নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে যান। গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বান্দরবান, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বীজ বপন করেছেন তিনি।
নিজ জেলা বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গাছ রোপণ করেন নাবিল। গত বছর রাস্তার ধারে, সরকারি পতিত জায়গায় শজনেগাছের এক হাজার ডাল রোপণ করেছেন। এবার সেসব গাছে ধরেছে শজনে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের লাউয়ের চারা দেন। এরপর দুই হাজার পেঁপের চারা কিনেছিলেন। এপ্রিলে পেঁপের চারা বিতরণ শেষ করেছেন। স্কুলশিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পেয়েছেন এই চারা।
বৃক্ষরোপণের দীর্ঘ পথচলায় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়েছেন তিনি। তৈরি হয়েছেন অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। তার দাবি অনুযায়ী সারা দেশে এই সংখ্যা অন্তত ৫০ হাজার। জানালেন, জেলায় জেলায় গিয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তারাও বৃক্ষরোপণ করেন। অনেক সময় তার কাছে তালবীজ চেয়ে পাঠান। তিনি তাদের বীজ সরবরাহ করেন।
নাবিল ইসলাম জানালেন, ‘গাছ লাগালে সওয়াব পাওয়া যায়, এ ধারণা থেকে আমি কাজটি শুরু করেছিলাম। মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে আমার এসব কাজ নিয়ে পড়ে থাকতে ভালো লাগে। এখন আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। আমার ট্রাস্টের অন্য সদস্যরা দেশ-বিদেশ থেকে ফান্ড দেন। এসব দিয়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। অনেক স্বেচ্ছাসেবী হয়েছেন, তারা নিজেরাই বৃক্ষরোপণ করেন—এটাই আমার ভালো লাগা।’
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মিনহাজ উদ্দিন শিশির একাধিকবার নাবিলের সঙ্গে বৃক্ষরোপণে অংশ নিয়েছেন। শিশির বললেন, ‘আমাদের নিমগাছী ইউনিয়নের বাঙালি নদীর পাড় দিয়ে অসংখ্য তালবীজ বপন করা হয়েছিল। ওই সময় তার সঙ্গে আমিও অংশ নিই। এরপর তার সঙ্গে নদীর বাঁধে বৃক্ষরোপণ করেছি। নাবিল ইসলাম নিঃসন্দেহে প্রকৃত বৃক্ষপ্রেমী।’
বগুড়ার শাজাহানপুরের সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেছেন, একজন নিভৃত বৃক্ষপ্রেমী বলতে যা বোঝায়, নাবিল ভাই তেমনই। প্রচারবিমুখ, সাদামনের মানুষ। তার সঙ্গে অনেক জায়গায় গিয়েছি বৃক্ষরোপণের জন্য। ২০১৫ সালের দিকে আমরা যমুনা সেতু এলাকায় অসংখ্য তালবীজ বপন করে এসেছি। আমাদের উপজেলার অনেক রাস্তার ধারে তালবীজ বপন করা হয়েছে। এসব গাছ বড়ও হয়েছে।
রাজফুল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পালন করা হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। তাদের দিয়েও গাছের চারা রোপণ করান নাবিল।




