ইংলিশ চ্যানেল পাড়ির পথে দুই নারী ও শিশুর মৃত্যু, উদ্ধার ১০২ জন
- কালাইয়ের কাছে অতিরিক্ত ভিড়ে নৌকায় চাপা পড়ে মৃত্যুর আশঙ্কা ফরাসি কর্তৃপক্ষের
- শান্ত সমুদ্রেও প্রাণ গেল তিনজনের, তদন্ত শুরু

২৮ সেপ্টেম্বর অনিয়মিত অভিবাসীদের ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিলে ফ্রান্সের উত্তর উপকূলের গ্রাভেলিনসের কাছে পেতি-ফোর-ফিলিপ সৈকতে পড়ে থাকা একটি ডিঙি নৌকা। ছবি: রয়টার্স
সমুদ্র সেদিন খুব উত্তাল ছিল না। ঢেউও ছিল তুলনামূলক শান্ত। তবু ইংলিশ চ্যানেলের কয়েক কিলোমিটারের যাত্রা শেষ হলো তিনটি জীবনের বিনিময়ে। ব্রিটেনে পৌঁছানোর আশায় উত্তর ফ্রান্সের কালাই উপকূল থেকে ছোট নৌকায় যাত্রা করেছিলেন শতাধিক মানুষ। গন্তব্যের আগেই মৃত্যু হলো ১০ বছরের এক শিশু ও ত্রিশের কোঠার দুই নারীর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে প্রকাশিত স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কালাইয়ের কাছে ব্লেরিও প্লাজ উপকূলের অদূরে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকালে ওই সৈকত থেকে যাত্রা শুরু করা একটি ফোলানো নৌকায় মোট ১০৫ জন ছিলেন। বিপদসংকেত পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ফ্রান্সের সামুদ্রিক পুলিশ জানায়, শান্ত সমুদ্রে নৌকাটি সমস্যায় পড়ার পর তাদের কাছে জরুরি বার্তা আসে। সঙ্গে সঙ্গে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ এবং ফরাসি নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। হেলিকপ্টারে একটি চিকিৎসক দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশু ও দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ফরাসি সামুদ্রিক কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, তাঁরা পানিতে ডুবে মারা যাননি। অতিরিক্ত মানুষে ঠাসা নৌকার ভেতরে চাপাচাপির কারণে শ্বাসরোধ বা গুরুতর আঘাতেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। জীবিতদের কালাই বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আরও নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যদিও কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মুখপাত্র বলেছেন, এই মৃত্যু “অপরাধী চক্রগুলো যে বিপদের মধ্যে দুর্বল মানুষদের ঠেলে দেয়, তার নির্মম স্মারক”। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকাতে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
তবে চলতি বছরে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছানো মানুষের মোট সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, এ বছর এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৬০৯ জন ছোট নৌকায় ব্রিটেনে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৮। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনাতেও এই সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।
তারপরও বিপদ কমেনি। গত সপ্তাহেই এক দিনে সাত শতাধিক মানুষ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছান, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা। একই সপ্তাহে দুটি নৌকা ব্রিটিশ সীমান্তরক্ষীদের নজর এড়িয়ে সরাসরি উপকূলে পৌঁছায়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তা কমান্ডকে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
চ্যানেলের জল তাই আবারও একই প্রশ্ন রেখে গেল। সংখ্যার হিসাবে পারাপার কমছে, কিন্তু একটি অতিরিক্ত বোঝাই নৌকার ভেতরে মৃত্যু এখনও কতটা কাছাকাছি, ব্লেরিও প্লাজের তিনটি প্রাণ তারই নির্মম স্মৃতি।



