গোপন সমঝোতায় ফারাজের প্রত্যাবর্তন? ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়
- রিফর্ম ইউকের নেতৃত্বে ফেরার পথ নাকি তৈরি হয়েছিল নির্বাচনের আগেই, আর্থিক চুক্তি ও দানের হিসাব নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ছবি: রয়টার্স
ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ নাইজেল ফারাজ-এর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই রিফর্ম ইউকের নেতৃত্বে তার ফেরার পথ তৈরি করতে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফারাজ, তৎকালীন রিফর্ম নেতা রিচার্ড টাইস এবং দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে আগে থেকেই একটি সমঝোতা হয়েছিল, যার ফলে ফারাজ পরে দলের নেতৃত্বে ফিরে আসেন। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে রিফর্ম ইউকের আর্থিক দায় মেটানোর বিষয়ও ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ফারাজের শিবির এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো অনিয়মের কথা স্বীকার করেনি। রিফর্ম ইউকে বরাবরই দাবি করে আসছে, দলের আর্থিক বিষয়গুলো আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে।
কী ছিল সেই সমঝোতা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফারাজের ফেরার আগে রিফর্ম ইউকের তৎকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যেখানে তার নেতৃত্ব গ্রহণের পর দলের আগের আর্থিক দায় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিচার্ড টাইসের সংস্থার দেওয়া ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি ঋণ পরিশোধ বা বাতিলের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই দাবি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে ফারাজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন কি শুধুই জনসমর্থনের ফল ছিল, নাকি এর পেছনে আগে থেকেই তৈরি ছিল সাংগঠনিক পরিকল্পনা?
ফারাজের বিরুদ্ধে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে চাপ
রিফর্ম ইউকের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে দলটির অর্থায়ন নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। বিশেষ করে ফারাজের পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি উপহার এবং দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন দাতার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় তদন্ত ও আইনগত পর্যালোচনার বিষয়ও সামনে এসেছে।
এর আগে জুন মাসে লন্ডনের এলবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারাজ তার ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, অর্থটি তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং তিনি সেটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন।
রিফর্মের উত্থান, ফারাজের বড় স্বপ্ন
ব্রিটেনের রাজনীতিতে ফারাজ দীর্ঘদিন ধরে ব্রেক্সিট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ২০১৬ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার গণভোটে তার প্রচার বড় ভূমিকা রেখেছিল।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ল্যাকটন আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ফের সক্রিয় রাজনীতির কেন্দ্রে আসেন। পরে রিফর্ম ইউকের নেতৃত্ব নিয়ে দলকে জাতীয় রাজনীতির বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
চলতি বছরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় রিফর্ম ইউকে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানের পর লেবার পার্টিও জনসমর্থনে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
জুন মাসে এলবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারাজ বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য রাখেন। তার কথায়, তিনি মনে করেন ব্রিটেনের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো জনসমর্থন তার রয়েছে।
তার সমর্থকদের দাবি, ফারাজ সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, রিফর্মের জনপ্রিয়তার আড়ালে রয়েছে বিতর্কিত অর্থায়ন ও সাংগঠনিক প্রশ্ন।
ফারাজের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই বিতর্কে ঘেরা। ব্রেক্সিট থেকে শুরু করে অভিবাসন নীতি–প্রতিটি ইস্যুতেই তিনি ব্রিটেনের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে অবস্থান নিয়েছেন।
কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে। অভিযোগ সত্যি হলে তা শুধু ফারাজ নয়, রিফর্ম ইউকের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভোটারের আস্থা শুধু জনপ্রিয়তার ওপর নয়, রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতার ওপরও নির্ভর করে।




