ড্রোনের যুগে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের চেহারা
- বদলাচ্ছে হেলিকপ্টারের ভূমিকাও

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধনীতিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কারণ একসময় যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হত হেলিকপ্টার। কিন্তু হেলিকপ্টার এখন আর আগের মতো ফ্রন্টলাইনে স্বাধীনভাবে অভিযান চালাতে পারছে না। বর্তমানে ড্রোন, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তারের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের ভূমিকা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইউক্রেন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা- এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সময় রাশিয়া হোস্তোমেল বিমানবন্দর দখলের জন্য বড় আকারের হেলিকপ্টার অভিযান চালায়। যদিও সে সময় ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ এবং বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। আর এরপর থেকেই ফ্রন্টলাইনের খুব কাছে হেলিকপ্টার ব্যবহার ক্রমশ কমে আসে।
ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে , যুদ্ধক্ষেত্রে এখন হেলিকপ্টারগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লফটিং কৌশলের মাধ্যমে হামলা চালাতে হচ্ছে। এতে সরাসরি ঝুঁকি কিছুটা কমলেও কিন্তু নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও হেলিকপ্টারের জন্য নতুন একটি ভূমিকা তৈরি করেছে। ফ্রন্টলাইন থেকে দূরে শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে ধেয়ে আসা রুশ শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে এমআই - ৮ ও এমআই -২৪ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে , ২০২৬ সালের মার্চে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার মাত্র তিন ঘণ্টায় ১২ টি শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করে। এই ধরনের অভিযান ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার কমিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ড্রোন মোকাবিলার সুযোগ তৈরি করছে। তবে নতুন এই কৌশলেরও ঝুঁকি রয়েছে । রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিছু শাহেদ ড্রোনে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার চেষ্টা করছে। যা হেলিকপ্টারের জন্য নতুন করে হুমকি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে , এখন শুধু হেলিকপ্টারই ড্রোন শিকার করছে না। ড্রোনও হেলিকপ্টারকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী ইতিমধ্যে একাধিকবার এফপিভি (FPV) ড্রোন ব্যবহার করে রুশ এমআই -২৮ ও কেএ-৫২ হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে।তুলনামূলক কম দামের একটি ড্রোন দিয়ে কয়েক কোটি ডলারের সামরিক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাগুলো ভবিষ্যতের যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরছে।বিশ্লেষকদের মতে এই নতুন অভিজ্ঞতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক পরিকল্পনাতেও বড়সড় প্রভাব ফেলছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভবিষ্যৎ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার প্রকল্প 'এফএআরএ' বাতিল করেছে। এর পরিবর্তে মানুষচালিত হেলিকপ্টার ও ড্রোনকে একসঙ্গে পরিচালনার কৌশল বা ‘ম্যানড-আনম্যানড টিমিং’ এরর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ড্রোন আগে শত্রু অবস্থান শনাক্ত করবে। আর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা হেলিকপ্টার সেই তথ্যের ভিত্তিতে আঘাত করবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা এখনও শেষ হয়ে যায়নি, তবে তাদের ভূমিকা বদলে যাচ্ছে। সরাসরি ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধের পরিবর্তে ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার মূলত দূরপাল্লার অস্ত্র বহন করা, সেনা ও রসদ পরিবহন করা, আহতদের সরিয়ে নেওয়া, ড্রোন সমন্বয় এবং আকাশ প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভাষান্তর : রুবাইয়া জেসমিন






