ইউরোপে প্রথম অনুমোদন ব্রিটেনে
ওজন কমানোর নতুন ওষুধ অনুমোদন, দিনে একটি ক্যাপসুল

সংগৃহীত ছবি
অতিরিক্ত ওজন কমানোর চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ওষুধের তালিকায় যুক্ত হলো নতুন নাম। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলির তৈরি ‘ফাউন্ডায়ো’কে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর ফলে ব্রিটেনে অনুমোদিত দ্বিতীয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওজন কমানোর ট্যাবলেট হলো এটি।
একই সঙ্গে অরফরগ্লিপ্রন নামে পরিচিত ফাউন্ডায়োকে অনুমোদন দেওয়া ইউরোপের প্রথম দেশও যুক্তরাজ্য। ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসাতেও ওষুধটি ব্যবহার করা যাবে।
ব্রিটেনের মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) সোমবার দীর্ঘ মূল্যায়ন শেষে ফাউন্ডায়োর অনুমোদন দেয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওষুধটির নিরাপত্তা, গুণমান ও কার্যকারিতা যাচাই করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে অনুমোদন পেলেও এখনই জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে ফাউন্ডায়ো পাওয়া যাবে না। সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহারের আগে ওষুধটির ব্যয় ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সেলেন্স (এনআইসিই)।
ফাউন্ডায়োর সক্রিয় উপাদান অরফরগ্লিপ্রন। এটি জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির ওষুধ। শরীরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী একটি হরমোনের কার্যপ্রণালীর অনুকরণ করে এটি। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়, খাবারের পরিমাণ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
এমএইচআরএ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসাতেও ওষুধটির অনুমোদন রয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যে মুখে খাওয়ার জিএলপি-১ ওষুধ হিসেবে ফাউন্ডায়ো প্রথম নয়। গত ১১ জুন নোভো নরডিস্কের সেমাগ্লুটাইড বা ওয়েগোভির ট্যাবলেট সংস্করণকে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুমোদন দেয় এমএইচআরএ।
সেটিই ছিল দেশটিতে অনুমোদিত প্রথম জিএলপি-১ শ্রেণির ওজন কমানোর ট্যাবলেট। দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এবার দ্বিতীয় ওষুধ হিসেবে যুক্ত হলো ফাউন্ডায়ো।
ওজন কমানোর চিকিৎসায় বর্তমানে সবচেয়ে পরিচিত ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে এলি লিলির মাউনজারো এবং নোভো নরডিস্কের ওয়েগোভি। তবে এগুলোর বহুল ব্যবহৃত সংস্করণ সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হয়।
ফাউন্ডায়োর বিশেষত্ব হলো, এটি দিনে একবার ট্যাবলেট হিসেবে সেবন করা যাবে। খাবার বা পানি গ্রহণের সময় নিয়েও বিশেষ বিধিনিষেধ নেই। ফলে নিয়মিত ইনজেকশন নিতে অনিচ্ছুক রোগীদের জন্য এটি একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
এমএইচআরএর অনুমোদন অনুযায়ী, ৩০ বা তার বেশি বিএমআই থাকা ব্যক্তিরা ফাউন্ডায়ো ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। বিএমআই ২৭ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলেও ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ওষুধটি কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তার পাশাপাশি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত।
গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে ওজন কমানোর ওষুধের বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মাউনজারো ও ওয়েগোভির মতো ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। এবার একই শ্রেণির ওষুধ ট্যাবলেট আকারে বাজারে আসায় এলি লিলি ও নোভো নরডিস্কের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপে ফাউন্ডায়োর প্রথম অনুমোদনও এমন সময়ে হলো, যখন স্থূলতার চিকিৎসায় ইনজেকশনের পাশাপাশি মুখে খাওয়ার ওষুধের চাহিদা বাড়ছে।
তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, ফাউন্ডায়ো কোনো ‘জাদুর ওষুধ’ নয়। ওজন কমাতে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও জরুরি। অন্যান্য জিএলপি-১ ওষুধের মতো এরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।
বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বমি এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এমএইচআরএ জানিয়েছে, বাজারে আসার পরও ওষুধটির নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এনএইচএসে ফাউন্ডায়ো ব্যবহারের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওষুধটির খরচের তুলনায় কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এনআইসিই।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে ওষুধটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে এলি লিলির।
ফাউন্ডায়োর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে স্থূলতার চিকিৎসায় নতুন প্রতিযোগিতার পথ খুলল। বিশ্বজুড়ে স্থূলতা বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হওয়ার সময়ে যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ওজন কমানোর চিকিৎসায় ইনজেকশনের পাশাপাশি সহজে সেবনযোগ্য ট্যাবলেটের ব্যবহার বাড়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।




