ব্রেক্সিটের ক্ষত এখনো গভীর
ইইউতে ফেরার পক্ষে লন্ডনের অধিকাংশ মানুষ

ছবি: রয়টার্স
ব্রেক্সিটের প্রায় এক দশক পর যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার সুর আরও জোরালো হচ্ছে। নতুন এক জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনই গণভোট হলে লন্ডনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের ইইউতে আবার যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন। এ ফল সামনে আসতেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
জরিপ অনুযায়ী, রাজধানী লন্ডনে ইইউতে আবার যোগদানের প্রতি সমর্থন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিটপরবর্তী অর্থনৈতিক ধীরগতি, শ্রমিক সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্যে জটিলতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে জনমতের এ পরিবর্তন ঘটছে।
সাদিক খান বলেছেন, প্রতিদিনই ব্রেক্সিটের কারণে শুধু লন্ডন নয়, লন্ডনের মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যুক্তরাজ্যের স্বার্থেই প্রয়োজন। তিনি লেবার পার্টিকে আগামী সাধারণ নির্বাচনে ইইউতে আবার যোগদানের অঙ্গীকার করার আহ্বানও জানালেন।
২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্য ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিলেও লন্ডন ছিল ব্যতিক্রম। রাজধানীর অধিকাংশ ভোটার তখন ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
নতুন এই জরিপ সেই প্রবণতাই আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকার আপাতত ইইউতে আবার যোগ দেওয়া, একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। বরং বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী তার সরকার।




