রাশিয়ার ৪ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল অস্ট্রিয়া

ছবি: রয়টার্স
কূটনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে অসংগত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভিয়েনায় কর্মরত চার রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রিয়া। সাধারণত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ বোঝাতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়।
অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ভিয়েনায় কর্মরত চার রুশ কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহিষ্কৃত কূটনীতিকদের তিনজন অস্ট্রিয়ায় রাশিয়ার দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। অন্যজন ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থায় (ওএসসিই) রাশিয়ার প্রতিনিধিদলে সামরিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক দায়িত্বে ছিলেন।
এ নিয়ে ২০২০ সাল থেকে অস্ট্রিয়া থেকে বহিষ্কৃত রুশ কূটনীতিকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮। অস্ট্রিয়া নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির সরকারগুলো রাজনৈতিকভাবে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়েছে।
রাশিয়ার দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিয়েনা চিন্তাহীনভাবে পশ্চিমাদের রাশিয়াবিরোধী নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া অনিবার্য।’
কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘটনাকে অস্ট্রিয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রতি ‘আরেকটি বন্ধুত্বহীন পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে দূতাবাস।
সাধারণত এ ধরনের বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মন্তব্য করে না অস্ট্রিয়া। তবে গত মে মাসে তিন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের সময় দেশটি বলেছিল, রাশিয়ার কূটনৈতিক ভবনগুলোর ছাদে থাকা বিপুলসংখ্যক অ্যানটেনা গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
ভিয়েনা আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ওএসসিই) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, যেমন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদর দপ্তর রয়েছে।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশগুলো প্রায়ই অস্ট্রিয়া, ওএসসিই এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জন্য পৃথক রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে। এসব রাষ্ট্রদূতের অধীনে পৃথক দূতাবাস বা মিশন পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত ছিল ভিয়েনা। দীর্ঘদিন ধরেই শহরটির পরিচিতি গুপ্তচরদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। সেখানে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কূটনীতিকের উপস্থিতি কূটনৈতিক দায়মুক্তির আড়ালে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।



