ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় পুড়ল কয়েক মিলিয়ন বই

ফাইল ছবি
এবার পুতিনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের সংস্কৃতি, ইউক্রেনের বই। শনিবার রাশিয়ার ড্রোন হামলায় খারকিভ শহরের এক প্রকাশনাসংস্থা গুদামে আগুনে লেগে পুড়ে গেছে কয়েক মিলিয়ন বই। দাবি করা হয় পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনিয় সংস্কৃতি ধ্বংসের উদ্দেশে চালানো হয়েছে এই হামলা। এতে একজন প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রানোক পাবলিশিং হাউসের গুদামটি ।
প্রকাশনাটির মহাপরিচালক ভিক্টর ক্রুগলভ ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম সাসপিলনে খারকিভকে জানিয়েছেন, হামলাটি চালানো হয়েছিল রানোক পাবলিশিং হাউজের গুদাম লক্ষ্য করে। এটি মোটেও কোনো এলোমেলো হামলা ছিল না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও জানান তিনি।
ক্রুগলভ বলেছেন, গুদামের সব কর্মী নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন। তবে ভেতরে এখনো প্রবেশ করা যাচ্ছে না। কারণ, ভেতরের তাপমাত্রা কয়েক শ ডিগ্রি। সবকিছু এখনো জ্বলছে।
তার ভাষ্য, হামলায় ধ্বংস হয়েছে কয়েক মিলিয়ন বই। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের পাঠ্যবইও। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে অনেক স্কুলে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।
ইউক্রেনের বড় বইয়ের দোকান চেইন নিগোল্যান্ডও (KnyhoLand) একই গুদামে বই রাখত। গুদামে আগুন লাগার পর প্রতিষ্ঠানটি ওয়েবসাইটে নতুন অর্ডার নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইগর জারুদকো ফেসবুকে লিখেছেন, সবকিছু আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। আপাতত ওয়েবসাইটে নতুন অর্ডার গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সবাইকে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
ইউক্রেনিয়ান বুক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসেই ১৫ লাখের বেশি বই ধ্বংস হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো বিভিন্ন হামলায় । এর মধ্যে ২ জুলাইয়ের হামলায় প্রায় নয় লাখ এবং ১৯ জুলাই কিয়েভে হামলায় প্রায় আড়াই লাখ বই পুড়ে যায়।
সবশেষ এই হামলার সময় কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এতে অন্তত নয়জন নিহত এবং ২২ জন আহত হন। হামলার ধ্বংসাবশেষে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে দুজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ভবনটির ওপরের তলা থেকে ৩৫ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাস ছিল যুদ্ধ শুরুর পর বেসামরিক প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ। এ মাসে অন্তত ৩৭৭ জন নিহত এবং ২ হাজার ১২৯ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় এক নাবিক নিহত হওয়ায় নতুন করে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা । সে সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি, বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইরান দ্বিধা করবে না।






