ধনকুবেরদের সম্পদে করের প্রস্তাব, জনস্বস্তিতে প্রথম বাজি বার্নহ্যামের

নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের অতি ধনীদের ওপর সম্পদকর (ওয়েলথ ট্যাক্স) আরোপ করে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের প্রস্তাব সামনে এসেছে। এমন সময়েই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং সরকারি অর্থব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়েই যাত্রা শুরু করল নতুন সরকার।
অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান ও বেন টিপেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদের মালিক পরিবারগুলোর ওপর ন্যূনতম ২ শতাংশ সম্পদকর আরোপ করলে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই করের আওতায় আসবে এক হাজারেরও কম অতি ধনী পরিবার। আবাসন, ব্যবসায়িক মালিকানা, শেয়ার, শিল্পকর্মসহ প্রায় সব ধরনের সম্পদ করের আওতায় আনার পাশাপাশি বিদেশে সম্পদ সরিয়ে কর ফাঁকি ঠেকাতে দেশ ছাড়ার পরও ১০ বছর পর্যন্ত কর পরিশোধের বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্পদকর নিয়ে বার্নহ্যাম সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে নির্বাচনী প্রচারে করব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য করার অঙ্গীকার করেছিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। সরকারঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্য, জনসেবা খাতে ব্যয় বাড়াতে বিকল্প রাজস্বের উৎস খুঁজছে সরকার, যদিও নতুন কর আরোপের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বার্নহ্যাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তার সরকার হবে কস্ট অব লিভিং গভর্নমেন্ট, অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিলে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ছয় মাসের জন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে গড়ে প্রতিটি পরিবার বছরে প্রায় ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকারের হিসাব।
এই করছাড়ের অর্থ জোগাতে আগের সরকারের ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। বার্নহ্যামের ভাষায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই এখন সরকারের প্রথম দায়িত্ব। তবে এটিই শেষ পদক্ষেপ নয়, বরং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী জন হিলিও সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। একদিকে করছাড় ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, অন্যদিকে সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, আগামী বাজেটে সম্পদকর, মূলধনী মুনাফা কর এবং সম্পত্তিভিত্তিক কর সংস্কারের মতো বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।




