ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে: ইসরায়েলের ইতিহাস নিয়ে সরব পোলানস্কি
- নিজের ইহুদি পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ইসরায়েলি দখলদারি নিয়ে প্রশ্ন ব্রিটিশ নেতার
- বলেছেন, ‘অধিকার রাষ্ট্রের নয়, মানুষের’

দখল করা ভূখণ্ডের সীমানা কোথায় শেষ, তা নিয়েই বিতর্ক৷ এবার সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠল ব্রিটেনের রাজনীতিতে। ইসরায়েলের কোনো স্বয়ংক্রিয় অস্তিত্বের অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। তার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনে এমন অধিকার কোনো রাষ্ট্রেরই নেই। অধিকার রয়েছে মানুষের। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি, উভয়েরই স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন পোলানস্কি। ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার আছে কি না, জানতে চাইলে তাঁর জবাব, ‘আন্তর্জাতিক আইনে কোনো রাষ্ট্রেরই এমন অধিকার আছে বলে মনে করি না।’ এরপর বলেছেন, ‘ইসরায়েল নিজেই তার সীমান্ত জানে না। ক্রমাগত অন্যের ভূখণ্ডে ঢুকছে।’
পোলানস্কি বলেছেন, মানুষ বেঁচে থাকার অধিকার রাখে। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি বসবাস, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, ভোট দেওয়া এবং নিরাপদে থাকার সমান অধিকার থাকা উচিত। কোনো জাতিগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি অন্য জনগোষ্ঠীর অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তাঁর মতে, পশ্চিমা সরকারগুলোরও একতরফাভাবে ওই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ঠিক করা উচিত নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ব্রাইটনে দলের সম্মেলনে গ্রিন পার্টি ‘জায়নবাদ বর্ণবাদ’ শীর্ষক প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রস্তাবে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনজুড়ে একটি গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়। পোলানস্কি ভোটাভুটিতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মতাদর্শের সমালোচনাকে তিনি সমর্থন করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে এক হাজার ২২টি, বিপক্ষে ৮১৩টি। সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় পর্যায়ে গ্রিন পার্টির সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানায় লেবার পার্টি। গ্রিন শাখাগুলোকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বলা হয়। অন্যথায় চুক্তি ভাঙার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নিজে ইহুদি পরিবারে বড় হয়েছেন জানিয়ে পোলানস্কি বলেছেন, ছোটবেলায় তাঁকে শেখানো হয়েছিল ইহুদিদের জন্য একটি ভূখণ্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, ‘সেই ভূখণ্ডে আগে যারা ছিল, তাদের কী হয়েছিল?’ তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, জাতিগত নির্মূলের শিকার হতে হয়েছে। গাজায় প্রায় ৭৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বর্তমান জায়নবাদের বাস্তব প্রয়োগকে বর্ণবাদী আখ্যা দিয়েছেন।
তবে দলের প্রস্তাবিত একক রাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন তিনি। পোলানস্কি চান, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ঠিক করবেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিরা নিজেরাই। দলের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগে প্রস্তাব সংশোধনের সুযোগ নেই। তিনি প্রস্তাব বাতিল করবেন না, তবে সংশোধন করতে চান।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং দেশটির প্রধান রাবাই এফ্রাইম মিরভিস প্রস্তাবটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন। গ্রিন পার্টির ইহুদি সদস্যদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদনের পর পোলানস্কির ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার।
অন্যদিকে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতি বেআইনি বলে মত দেয়। অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বানও জানায়।
রাজনৈতিক বিতর্ক তাই শুধু রাষ্ট্রের নাম বা সীমানা নিয়ে নয়। প্রশ্নটি আরও গভীর। এক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার যুক্তিতে অন্য জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা আর সমান অধিকার কত দিন অস্বীকার করা যাবে?



