বদলে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের খেলা
রিলস-শর্টসেই বিলিয়ন পাউন্ডের বাজার ব্রিটেনে
- এককালীন বিজ্ঞাপন নয়, দীর্ঘমেয়াদি ক্রিয়েটর জোটে ঝুঁকছে ব্র্যান্ড
- ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে বাড়ছে বিনিয়োগ

যুক্তরাজ্যের ৯৩ শতাংশ ব্র্যান্ড ও এজেন্সি আগামী ১২ মাসে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে ব্যয় বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
মোবাইলের পর্দায় কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও, আর তার পেছনে কোটি পাউন্ডের বিজ্ঞাপন অর্থ–ব্রিটেনের বিপণন দুনিয়ায় এই বদল এখন আর সাময়িক ট্রেন্ড নয়, পূর্ণাঙ্গ অর্থনীতিতে রূপ নিচ্ছে। নতুন গবেষণা বলছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের ‘ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ’ বাজার প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে ১ দশমিক ২১৭ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইএবি ইউকের প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছর এই বাজার ২৬ শতাংশ বাড়বে। ২০২৫ সালে ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ থেকে আয় ছিল ৯৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০২৪ সালের ৮০৪ মিলিয়ন পাউন্ডের তুলনায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। গবেষণাটি আইএবি ইউকের জন্য করেছে ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যাটিস্টিকস বা আইআরএম।
গবেষণায় ‘ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ’ বলতে এমন প্রচারকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে কনটেন্ট নির্মাতারা নিজেদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্র্যান্ডের জন্য কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রযোজনা, বিতরণ এবং ডিজিটাল স্বত্বের আয় রয়েছে। তবে সাবস্ক্রিপশন, ইভেন্ট, নিজস্ব পণ্য বিক্রি কিংবা ক্রিয়েটর কনটেন্টের পাশের সাধারণ বিজ্ঞাপনের আয় এতে ধরা হয়নি।
আইএবি ইউকের টিভি+ ও ক্রিয়েটর লিড কনি হকার বলেছেন, ক্রিয়েটররা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও এত দিন যুক্তরাজ্যের বাজারটির প্রকৃত আকার স্পষ্ট ছিল না। তাঁর মতে, নতুন হিসাবটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি মাপার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি করছে।
২০২৫ সালে এই খাত ব্রিটেনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারে প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড যোগ করেছে, যা মোট ৪০ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যয়ের প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ। একই বছরে ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ ২০ দশমিক ১ শতাংশ বাড়লেও, এই খাত বাদ দিলে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
‘উই আর সোশ্যাল’-এর পল গ্রিনউডের ভাষায়, ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ক্রিয়েটর সহযোগিতা এখন পরীক্ষামূলক বা আলাদা কৌশল নয়; এটি দর্শকের কাছে পৌঁছানো ও সম্পৃক্ততা তৈরির মূল উপায়ের একটি হয়ে উঠছে। অংশীদারত্বও ক্রমেই এককালীন প্রচার থেকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে বদলাচ্ছে।
মার্কেটিং উইকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৯৩ শতাংশ ব্র্যান্ড ও এজেন্সি আগামী ১২ মাসে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ে ব্যয় বাড়ানোর আশা করছে। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ বিপণনকারীদের বড় অংশ মাইক্রো-ইনফ্লুয়েন্সারদের দিকে ঝুঁকছে, কারণ ছোট কিন্তু ঘনিষ্ঠ অনুসারী গোষ্ঠীতে বিশ্বাস ও সম্পৃক্ততা তুলনামূলক বেশি।
গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, প্রকৃত বাণিজ্যিক মূল্য আরও বড় হতে পারে। কারণ পেইড অ্যামপ্লিফিকেশন বা ক্রিয়েটর কনটেন্টকে অর্থ দিয়ে আরও বেশি মানুষের সামনে পৌঁছে দেওয়ার ব্যয় মূল হিসাবের বাইরে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, এই ব্যয় ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ আয়ের দুই থেকে তিন গুণও হতে পারে, যদিও আইএবি ইউকে বলেছে, এই অনুমান সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ব্রিটেনে বিজ্ঞাপনের ভাষা বদলাচ্ছে। টেলিভিশন তারকার বদলে ফোন হাতে দাঁড়ানো একজন ক্রিয়েটরই এখন বহু ব্র্যান্ডের জন্য নতুন মিডিয়া, নতুন দোকান এবং নতুন বিক্রয়কর্মী।
আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৯৩ শতাংশ বিপণনকারী মাইক্রো-ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অনুসারী সংখ্যার চেয়ে নির্দিষ্ট কমিউনিটির আস্থা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সরাসরি ক্রয়-প্রভাব এখন ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ক্রমশ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



