জেল উপচে পড়ছে ব্রিটেনে, বিদেশি বন্দিদের এল সালভাদরে পাঠানোর প্রস্তাব রিফর্ম ইউকের
- গুরুতর অপরাধীদের আগাম মুক্তি ঠেকাতে বিদেশি দণ্ডিতদের নিজ দেশ অথবা তৃতীয় দেশের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তাব ব্রিটেনের ডানপন্থী এই দলটির
- ১২ হাজার অস্থায়ী কারাকক্ষ তৈরির ছক

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনের কারাগারে জায়গার সংকট সামলাতে বিদেশি দণ্ডিতদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে। ডানপন্থী এই দলটির বক্তব্য, বিদেশি বন্দিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হোক; সেই দেশ নিতে না চাইলে এল সালভাদর, কসোভো কিংবা অন্য কোনো দেশের কারাগারে জায়গা ভাড়া করে সেখানে তাদের সাজা কাটানোর ব্যবস্থা করা হোক। এতে ব্রিটিশ জেলে জায়গা খালি হবে এবং খুন, ধর্ষণ ও গুরুতর সহিংস অপরাধে দণ্ডিতদের আগাম মুক্তি দেওয়ার প্রয়োজন কমবে।
রিফর্ম-এর স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ জানিয়েছেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে বিদেশি দণ্ডিতদের ব্রিটিশ কারাগার থেকে সরানোর চেষ্টা করবে। প্রথম পছন্দ হবে সংশ্লিষ্ট বন্দির নিজের দেশ। তা সম্ভব না হলে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে এল সালভাদর ও কসোভোর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। ফারাজ লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার মতো দেশের কথাও তুলেছেন।
রিফর্ম প্রায় ১০ হাজার বিদেশি বন্দির কথা বললেও সরকারি হিসাবে ৩০ জুন অবধি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে বিদেশি নাগরিক ছিলেন ১০ হাজার ১৩৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৩১ জন সাজাপ্রাপ্ত, ৩ হাজার ২৮৩ জন রিমান্ডে এবং আরও ৪২০ জন ‘নন-ক্রিমিনাল’ শ্রেণিতে হেফাজতে ছিলেন। ফলে সবাই দোষী সাব্যস্ত নন। রিফর্ম জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে না।
বিদেশি বন্দিদের সরানোর পাশাপাশি দেশে দ্রুত আরও ১২ হাজার কারাবন্দির জায়গা তৈরিরও প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম। করোনাকালের ‘নাইটিঙ্গেল হাসপাতাল’-এর আদলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জমিতে মডিউলার কাঠামো বসিয়ে ‘নাইটিঙ্গেল প্রিজন’ তৈরির কথা বলেছে দলটি। তুলনামূলক কম ঝুঁকির বন্দিদের সেখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রিফর্ম-এর হিসাবে, বিদেশি বন্দিদের সরানো এবং নতুন কারাকক্ষ মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার অতিরিক্ত জায়গা তৈরি হতে পারে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বা বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এই প্রস্তাব এসেছে ব্রিটিশ সরকারের আগাম মুক্তির নীতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে। নতুন সাজা আইনে নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত অনেক বন্দি আগের তুলনায় কম সময় কারাগারে থেকেই মুক্তির সুযোগ পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে অর্ধেক বা তারও কম সাজা কাটিয়ে মুক্তি সম্ভব হবে। ধর্ষণ, গুরুতর শিশু যৌন নির্যাতন ও কিছু গ্রুমিং-সংক্রান্ত অপরাধকে অবশ্য নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। পরিবর্তিত ব্যবস্থা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা এবং প্রায় পাঁচ হাজার বন্দি এর আওতায় আসতে পারেন।
রিফর্ম বলেছে, গুরুতর অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের পুরো সাজা কারাগারেই কাটানো উচিত। দলটি দোকানে চুরির মতো অপরাধের জন্য স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড ফিরিয়ে আনা এবং প্যারোলের সুযোগ আরও পরে দেওয়ার কথাও বলছে। এ
ল সালভাদরকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির কঠোর কারাব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হলেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বহু অভিযোগ রয়েছে। অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, সেখানে বন্দি পাঠালে নির্যাতন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন উঠতে পারে। রিফর্ম অবশ্য দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তিতেই ব্রিটেনকে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত দেশ থেকে সরানোর ব্যবস্থা বর্তমান সরকারও করছে। আর্লি রিমুভাল স্কিম-এর আওতায় ব্রিটেনে থাকার অধিকার নেই এমন যোগ্য বিদেশি বন্দিদের সাজার একটি অংশ কাটানোর পর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। তবে রিফর্ম-এর প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, নিজ দেশ বন্দিকে নিতে না চাইলে অন্য কোনো দেশের কারাগারে তাঁকে পাঠিয়ে বাকি সাজা কাটানোর ব্যবস্থা করা।
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি রিফর্ম-এর পরিকল্পনাকে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছে। সরকারের বক্তব্য, বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত বহিষ্কার এবং নতুন কারাগার নির্মাণ–দুই দিকেই ইতিমধ্যে কাজ চলছে।
ফলে ব্রিটেনের কারাসংকট এখন শুধু নতুন জেল বানানোর প্রশ্নে আটকে নেই। বিতর্কটি দাঁড়িয়েছে, জেলে জায়গা কম হলে বন্দিকে আগাম ছাড় দেওয়া হবে, নাকি বিদেশি দণ্ডিতদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে সেই জায়গা খালি করা হবে?




