ইউরোপ জুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, গ্রিসে প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

ছবি: রয়টার্স
গ্রিস, স্পেন, ফ্রান্স, তুরস্ক ও পর্তুগালে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ ও পেলোপনিজ অঞ্চলে আগুন নেভাতে গিয়ে তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে প্রবল দমকা হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রাম খালি করা হয়। দ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলের রেথিমনো এলাকায় আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে দুই দমকলকর্মী নিহত হন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ পেলোপনিজের গিথেইও বন্দরনগরের কাছে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা আরেক দমকলকর্মী পরে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্রিটে একাধিক স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় আগুনের বিস্তৃতি ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার। নিহত দুই দমকলকর্মীর গ্রামের বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্রিসের পারোস ও লেসবস দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের ট্রিফিলিয়া এলাকাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তুরস্কের মুগলা প্রদেশে আগুনের কারণে ফেতিয়ে-আন্তালিয়া মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং একটি হাসপাতালের অংশবিশেষ খালি করা হয়েছে।
স্পেনে গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, মাদ্রিদের কাছে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা ও দমকা হাওয়ার কারণে আগুন আবারও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাদ্রিদের পশ্চিমে আভিলা প্রদেশের বুরগোহন্দো এলাকায় এরই মধ্যে ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এটিকে স্পেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চলতি বছর দেশটিতে মোট দুই লাখ সাত হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়েছে।
আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় টলেডো, মাদ্রিদ, আভিলা ও কাস্তেয়োন এলাকার হাজারো বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভ্যালেন্সিয়ার উত্তর-পশ্চিমের ভাল দ’উইশো এলাকায় আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলেও বড় দাবানল আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কয়েকটি স্থানে আবার আগুন জ্বলে উঠেছে। ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট তৈরিতে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারখানাগুলো রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির দমকল বাহিনী।
স্পেনের আলমেরিয়ায় চলতি মাসের শুরুতে দাবানলে গুরুতর দগ্ধ এক নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। ওই দাবানলে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও স্পেনের নাগরিকসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, প্রতিবেশী পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিলা রিয়াল জেলাতেও দাবানল জ্বলছে। স্থানীয় পানি শোধনাগার ও গ্যাস ডিপোর নিরাপত্তায় সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। ইউরোপ সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ হওয়ায় সেখানে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র : বিবিসি






