ঘরে ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি মজুত রাখার পরামর্শ ব্রিটেনে
- সাইবার হামলা, রাশিয়ার 'নাশকতা' ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

এআই নির্মিত ছবি
হঠাৎ নিভে গেল ঘরের আলো। বন্ধ পানির কল। ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু তোলা যাচ্ছে না। মুঠোফোনেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। কিন্তু হলে প্রথম তিন দিন কীভাবে বাঁচবে একটি পরিবার? সেই প্রশ্ন সামনে এনে ব্রিটেনের নাগরিকদের ঘরে খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জাম মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। আশঙ্কার তালিকায় রয়েছে ঝড়-বন্যা, সাইবার হামলা এবং শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের নাশকতা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ‘প্রস্তুত থাকুন’ নামে নতুন জাতীয় কর্মসূচিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকের জন্য দৈনিক তিন লিটার হিসাবে তিন দিনে নয় লিটার পানীয় জল সংরক্ষণের পরামর্শ রয়েছে। রান্না ও পরিচ্ছন্নতার জন্য লাগবে বাড়তি পানি।
সঙ্গে দীর্ঘদিন ভালো থাকে এমন খাবার, টিনজাত খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, কম্বল, নগদ অর্থ এবং ব্যাটারি বা হাত ঘুরিয়ে চালানো বেতারযন্ত্র রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে মুঠোফোন সচল রাখতে বহনযোগ্য চার্জার এবং জরুরি নথির কাগজের অনুলিপিও কাজে আসতে পারে।
এ দিন পশ্চিম মিডল্যান্ডসের টেলফোর্ডে একটি অস্ত্রকারখানা উদ্বোধনের সময় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, রাশিয়াসহ বৈরী শক্তির ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস’ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করতে পারে। সাইবার হামলায় অর্থ লেনদেন, খাদ্য সরবরাহ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এসব আশঙ্কা নিছক কল্পনা নয়। তবে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড্যান জারভিস পার্লামেন্টে লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন তাঁরা জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আর ৮৪ শতাংশ চান সরকার আরও স্পষ্ট পরামর্শ দিক। তাঁর মতে, সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট ছোট প্রস্তুতি নিলে জরুরি সেবাকর্মীরা সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষকে আগে সাহায্য করতে পারবেন। একবারে সব কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।
এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সাইবার সংকটও। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাত্রুটি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের ৩২টি অনলাইন পরিষেবা সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি উত্তর আটলান্টিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলের যোগাযোগতারের কাছে রুশ জাহাজের সন্দেহজনক চলাচল এবং আর্কটিক অঞ্চলে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষাগত ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।
শীতের ঝড়, বন্যা ও দাবানলের অভিজ্ঞতাও রয়েছে প্রস্তুতির পেছনে। ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সরঞ্জামের পরামর্শ প্রচলিত। ব্রিটেনের এই উদ্যোগের পরিকল্পনা চলছিল আগে থেকেই। নতুন কর্মসূচিটি চলবে তিন বছর।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ প্রায় নিঃশব্দে প্রকাশ করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্কাই নিউজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ার পরই কর্মসূচি চালুর বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাতে দেখা যায়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
যে আধুনিক সভ্যতা বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট আর অদৃশ্য যোগাযোগজালের ওপর দাঁড়িয়ে, সেখানে একটি সুইচ বন্ধ হলেই কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে মানুষ? ব্রিটিশ সরকারের নতুন সতর্কতা সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে।



