ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যে প্রথমবার কমল জ্বালানির দাম

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর টানা ৪৬ দিন বাড়ার পর অবশেষে কিছুটা কমেছে যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম, যা স্বস্তির আভাস দিচ্ছে দেশটিতে।
বৃহস্পতিবার প্রতি লিটার পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৫৮ দশমিক ১ পেন্স, যা আগের দিনের ১৫৮ দশমিক ৩ পেন্স থেকে সামান্য কম। একই সময়ে ডিজেলের দামও ১৯১ দশমিক ৫ পেন্স থেকে কমে হয়েছে ১৯১ দশমিক ২ পেন্স।
তবে দাম কমলেও যুদ্ধ শুরুর তুলনায় পেট্রলের দাম এখনো প্রতি লিটারে ২৫ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ৪৯ পেন্স বেশি।
ব্রিটিশ জ্বালানি ও মোটরসেবা প্রতিষ্ঠান আরএসির নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস বলছেন, ‘৪৬ দিন ধরে বাড়ার পর অবশেষে সামান্য কমতে শুরু করেছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম।’
তিনি যোগ করেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম এখনো কম রয়েছে, তাই আমরা আশা করছি সামনে কয়েক দিনের মধ্যে কমতে পারে আরও কয়েক পেন্স।’
তিনি আরও বললেন, ‘রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির পর অবশেষে দাম কমার দিকেই যাচ্ছে—এটি দেখে স্বস্তি পাবেন চালকেরা। যদিও যুদ্ধের শুরুতে যে দামে ছিল, সেখানে ফিরতে এখনো অনেক বাকি। তবে সামনে আলোর আভাস দেখা যাচ্ছে।’
আরএসি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মোটরচালকদের ব্যয় করতে হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ১৪০ কোটি পাউন্ড।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ৷ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই প্রণালি বন্ধ করার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানির দামে।
এদিকে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। জ্বালানি খাতের শীর্ষ এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে, যা রূপ নিতে পারে ‘আমাদের দেখা সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটে’।
বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেট জানিয়েছে, মার্চ শেষে ছয় মাসে তাদের কর-পূর্ব ক্ষতি হতে পারে ৫৪০ থেকে ৫৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে। শুধু গত মাসেই জেট ফুয়েলের পেছনে তাদের ব্যয় হয়েছে অতিরিক্ত ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

