আরাকচির বেইজিং সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এপেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কথা বলছেন (ডানে) এবং আজ সকালে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আব্বাস আরাকচি। ছবি : রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শিগগিরই চীন সফরে আসছেন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে আজ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এ বৈঠকের ফলাফল নিয়ে ইরান ও চীন উভয়ই উদ্বিগ্ন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে সফরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্রথমবারের মতো চীন সফরে এলেন। সংঘাত শুরুর সময় থেকে তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে অন্তত তিনবার কথা বলেছেন।
সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা দাবি করেছে, বেইজিংয়ে আলোচ্যসূচিতে প্রাধান্য পাবে দুটি বিষয়; যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।
ট্রাম্প প্রণালিটি পুনরায় খুলতে ইরানকে আরও চাপ দেওয়ার জন্য বেইজিংকে বলে আসছে। এক্ষেত্রে চীন ওয়াশিংটনকে কোনো ছাড় দিতে ইচ্ছুক কিনা, তা জানতে তেহরান তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে।
অন্যদিকে, চীন তেহরানের কাছ থেকে এই আশ্বাস চাইবে যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার মতো কোনো পরিকল্পনা যাতে না থাকে।
এর ফলে বেইজিং একটি জটিল কৌশলগত অবস্থানে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেখানে তাকে একদিকে ইরানের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানের ওপর নিজের প্রভাব বজায় রাখতে হচ্ছে। তার ওপর সব পক্ষকে এই সংকেত দিতে হচ্ছে যে, সে শান্তির একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশল কেন্দ্রের গবেষক জোডি ওয়েন মনে করেন, আরাঘচির এই সফরটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌকা চলাচল সংকট বিরাজ করছে এবং ট্রাম্প এই মাসের শেষের দিকে চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওয়েনের দাবি, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে চীনের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করার লক্ষ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ‘এছাড়াও আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরাকচি আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইরানের জন্য আরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বা সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন। সুতরাং, আমি মনে করি চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে এবং হরমুজ প্রণালিকে আগের মতো উন্মুক্ত করে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।’
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে চীন দুইপক্ষের জন্য একই নীতি গ্রহণ করেছে। বেইজিং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধের নিন্দা করার পাশাপাশি হরমুজ বন্ধ রাখায় ইরানের ভূমিকারও সমালোচনা করে আসছে।
সূত্র জানিয়েছে, জলপথটি পুনরায় চালু করতে রাজি হলে বেইজিংয়ের কাছ থেকে কী ধরনের সমর্থন পাবে, তেহরান তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
আলোচনার মধ্যে এটাও থাকবে, মার্কিন অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে কোনো চাপ সৃষ্টি হলে চীন জাতিসংঘে ইরানকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে কি না।
আলজাজিরা থেকে অনূদিত, ভাষান্তর : মাহমুদুল হাসান রিফাত



