শিশু মৃত্যুর তথ্য গোপন, চীনে তদন্তের মুখে জিন থেরাপি গবেষণা

ফাইল ছবি
জিন সম্পাদনা প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা চীনের গবেষণা খাত এবার বড় ধরনের নৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছে। পরীক্ষামূলক জিন থেরাপির পর ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য গবেষণাপত্রে গোপন রাখার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনাটি গবেষণার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিবার জানিয়েছে এ তথ্য।
সায়েন্স এবং রিট্র্যাকশন ওয়াচের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মেই’ ছদ্মনামে পরিচিত ওই শিশুটি গত বছর মস্তিষ্কে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তৈরি ট্রিলিয়ন সংখ্যক ভাইরাসযুক্ত একটি জিন থেরাপি মেরুদণ্ডের মাধ্যমে প্রয়োগের প্রায় এক সপ্তাহ পর মারা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক এই জিন থেরাপির লক্ষ্য ছিল বিরল এক জিনগত রোগের চিকিৎসা করা, যা শিশুটির জ্ঞানীয় বিকাশে বিলম্ব ঘটিয়েছিল।
গবেষণার প্রধান স্নায়ুবিজ্ঞানী চিউ জিলং পরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী নেচারে সংশ্লিষ্ট প্রাণীভিত্তিক গবেষণার ফল প্রকাশ করেন। তবে সেখানে ‘মেই’-এর মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না।
এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন স্কুল জানিয়েছে, তারা বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ দেখছে এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তদল গঠন করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মেডিসিন স্কুল সবসময় বৈজ্ঞানিক গবেষণার সততা এবং গবেষণার নীতিমালাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার নৈতিকতা লঙ্ঘন করে কোনো চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা পরিচালনার বিরোধিতা করে।’
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
সায়েন্স ও রিট্র্যাকশন ওয়াচের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুটির বাবা-মা পরীক্ষাটির জন্য ৮ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষক চিউ জিলংয়ের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ককে লক্ষ্য করে বিশ্বের প্রথম জিন সম্পাদনা থেরাপি তৈরি করা। এর মাধ্যমে শিশুটির স্নায়ুকোষে থাকা ত্রুটিপূর্ণ জিন সংশোধন করে প্রয়োজনীয় একটি প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এই মৃত্যুর তথ্য এত দিন প্রকাশ না পাওয়ার ঘটনা চীনের জৈবপ্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালে বিজ্ঞানী হ্য জিয়ানকুই গোপনে জিন সম্পাদনার মাধ্যমে শিশু জন্ম দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।




