চীনের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটার আহ্বান তাইওয়ানের বিরোধী নেতার

তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল কেএমটির চেয়ারপারসন চেং লি-উন বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানান
এক দশকের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে বেইজিংয়ে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাইওয়ানের প্রধান বিরোধীদলের নেতা চেং লি-উন। বৈঠকেটি বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষই তাইওয়ান প্রণালির এপার-ওপারের দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন।
চেং লি-উন তাইওয়ানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অন্যতম। এর আগে ২০১৫ সালে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জিও সিঙ্গাপুরে শির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। পরে ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবে দুই বছর আগে তিনি আবারও চীনে শির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চেং এবং মা দুজনেই কেএমটি দলের সদস্য। তারা তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বৈঠকে চেং বলেছেন, চীন ও তাইওয়ানের নেতাদের রাজনৈতিক সংঘাত ও পারস্পরিক শত্রুতা অতিক্রম করে কাজ করা উচিত। তাইওয়ান প্রণালি আর সংঘাতের কেন্দ্র বা বহিরাগত শক্তির দাবার বোর্ড হবে না। বরং এটি পারিবারিক বন্ধন, সভ্যতা ও আশার সেতুবন্ধনে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কেএমটি ও তাইওয়ানের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বেইজিং শান্তির জন্য কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে ইতিহাস এবং সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বহিরাগত কোনো শক্তি তাদের পুনর্মিলনের এই ঐতিহাসিক ধারাকে রুখতে পারবে না। তারা সবাই একই জাতি এবং একই পরিবারের সদস্য।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার মতপার্থক্য মেটানোর জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
এর প্রত্যুত্তরে চেং বলেন, চীনা জাতির পুনরুজ্জীবন তাইওয়ান প্রণালির উভয় পাশের মানুষের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা।
বৈঠকে উভয় নেতাই বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
তাইওয়ান-চীন সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে জটিল। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং কেএমটি ২০ শতকে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরে কেএমট-নেতৃত্বাধীন সরকার তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। এই দ্বন্দ্ব আজও পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি।
চীন এখনও তাইওয়ানকে নিজের প্রদেশ হিসেবে দাবি করে। প্রয়োজনে তাইওয়ানে শক্তি প্রয়োগের কথাও একাধিকবার বলেছে চীন। অন্যদিকে তাইওয়ানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় পরিচয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে।
২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, তাইওয়ানের ৬২ শতাংশ মানুষ নিজেদের তাইওয়ানিজ হিসেবে পরিচয় দেন। ১৯৯২ সালের ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বিপরীতে শুধু চীনা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মানুষের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশে।
সূত্র: আল-জাজিরা



