তিয়ানআনমেন হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা চীনের

ছবি: রয়টার্স
১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কবর পরিদর্শনে বাধা দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাটির ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে যেকোনো ধরনের স্মরণ অনুষ্ঠান ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের স্বজনদের বেইজিংয়ের একটি কবরস্থানে যেতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বার্ষিকীর দিনে সেখানে গিয়ে স্মৃতিচারণ করতেন। সে সময় পুলিশ তাদের ওপর নজরদারি রাখত।
১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে সামরিক বাহিনী অভিযান চালায়। সেদিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে সেনাবাহিনী পৌঁছানো ঠেকাতে জনতা রাস্তায় নেমেছিল। সেনারা অগ্রসর হওয়ার সময় হাজারো মানুষ নিহত হন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সেই সিদ্ধান্ত দেশটির আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অর্থনৈতিক সংস্কার ও বাজারভিত্তিক উন্নয়নের পথ বেছে নিলেও রাজনৈতিক উদারীকরণের পথে হাঁটবে না চীন।
এদিকে হংকংয়ে তিয়ানআনমেন স্মরণে যেকোনো কর্মসূচি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর শুরু হওয়া কঠোর দমন-পীড়নের আগে প্রতি বছর হাজারো মানুষ মোমবাতি প্রজ্বলন করে নিহতদের স্মরণ করতেন।
বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কোনো মাত্রার সেন্সরশিপই অতীতকে মুছে ফেলতে পারে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, একদিন তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
মার্কিন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চীন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাস বিকৃত করছে। চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকের ওই রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে চীনা সরকার অনেক আগেই স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করছে, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথকে আক্রমণ করছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
বার্ষিকী উপলক্ষে ‘তিয়ানআনমেন মাদার্স’ নামের সংগঠনটি ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ১০৭ জন স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে ১৯৮৯ সালের ঘটনার পূর্ণ সত্য প্রকাশ, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির সদস্য ঝাং শিয়ানলিং ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আমাদের স্বজনদের আত্মত্যাগ আমাদের হৃদয়ে অমোচনীয় বেদনা হয়ে রয়েছে। আমাদের অশ্রু শুকিয়ে গেছে, শোক হৃদয়ের গভীরে চাপা পড়ে আছে। যা অবশিষ্ট আছে তা হলো আমাদের প্রিয়জনদের চিরন্তন স্মৃতি এবং জনগণকে হত্যার সেই অপরাধের প্রতি ঘৃণা।
সূত্র: তাইপেই টাইমস




