মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো শুরু

২৯ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার লুমুতে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের বাসে করে নিয়ে আসা হয়— রয়টার্স
মিয়ানমার থেকে আসা শিশুসহ প্রায় দেড় হাজার শরণার্থীকে মঙ্গলবার ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। জাতিসংঘ ও কয়েক ডজন মানবাধিকার সংগঠনের আপত্তি উপেক্ষা করে শরণার্থী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটি।
মিয়ানমারের সঙ্গে সম্মত হওয়া বৃহত্তর একটি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এই প্রত্যাবাসন করা হলো। ওই পরিকল্পনার আওতায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
মালয়েশিয়া বলেছে, প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। তবে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো এই কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরসহ কয়েক ডজন বাস আসে। পরে বাসগুলো বন্দরের দিকে যায়। সেখানে মিয়ানমারের দুটি নৌযান ও একটি হাসপাতাল জাহাজ নোঙর করা ছিল।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে শিশু ও ৭ জন মেয়ে শিশু। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
আলাদা এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনের জন্য এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, শনাক্তকরণ, নথিপত্র ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধাপের প্রত্যাবাসন অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তারা কাজ করছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘মিয়ানমার থেকে শরণার্থীদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে ফেরার পক্ষে সহায়ক নয়’। প্রত্যাবাসনের জন্য যাদের বাছাই করা হয়েছে, তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় তারা ‘জড়িত ছিল না’ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালয়েশিয়া অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করেছে। দেশটিতে শরণার্থীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিরোধিতা বাড়ার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাতিগত রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে বিরোধিতা বেশি, যাদের অনেকেই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ওই অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা চলছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার থেকে আসা নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রোহিঙ্গা।




