২০ বছর নির্বাসনে থাকা থাকসিন প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন

কারামুক্তির পর সমর্থকদের ভিড়ে সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ছবি : বিবিসি
একজন রাজনীতিবিদ বিগত ২০ বছরের বেশিরভাগ সময় নির্বাসনে ছিলেন। গত আট মাস কাটিয়েছেন কারাগারে। সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে কারামুক্ত হয়েছেন।
আজ ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কারাগার থেকে সাদা শার্ট পরে ও চুল ছোট করে ছাঁটা অবস্থায় থাকসিন বেরিয়ে এলে লাল পোশাক পরা হাজারো সমর্থক উল্লাস করেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে কারাফটকে তার কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি বেরিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
৭৬ বছর বয়সী থাকসিন গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে ছিলেন। এর আগে টানা ১৫ বছর নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
ওই সময় থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেন।
থাকসিনের প্যারোলের মেয়াদ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময় তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরে থাকতে হবে। প্যারোলে মুক্তির তিন দিনের মধ্যে থাকসিনকে ব্যাংকক প্রবেশন দপ্তর–১–এ হাজিরা দিতে হবে। ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায় থাকসিনের বাসভবন।
থাকসিনের ব্যক্তিত্ব এবং বিশাল প্রভাব আজও থাইল্যান্ডের বুকে বিদ্যমান। থাকসিন কারা ফটক থেকে বেরিয়ে আসার পর জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তিনি থাই জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানান।
এরপর গাড়িবহর নিয়ে কারাগার এলাকা ছাড়েন থাকসিন। এ সময় তার বিলাসবহুল গাড়ির জানালার কাচ পুরোপুরি নামানো ছিল। ধীরগতিতে গাড়িটি সমর্থকদের ভিড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। তিনি সমর্থকদের হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামনে না এসে তিনি দলের নেপথ্যেই থাকবেন। থাই রাজনীতিতে তিনি আর কী ভূমিকা পালন করতে পারেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমের তুমুল জল্পনা-কল্পনা আছে। যদি তিনি সরাসরি মাঠে নামেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি বিদেশ থেকেই তার দল পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক কেন লোহাতেপানন্তের মত, থাকসিন কারাগার থেকে বেরিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে প্রবেশ করছেন। ফেউ থাই এখন কেবল একটি মাঝারি আকারের দল হিসেবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে, থাকসিনকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
তার দাবি, কিন্তু তিনি ও তার দল যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তা অতীতের চ্যালেঞ্জগুলোর চেয়ে ভিন্ন মাত্রার। ফেউ থাই পার্টিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা নতুন প্রজন্মের নেতাদের সুযোগ দিবে নাকি থাকসিন পরিবারের ওপর আবারও ভরসা রাখবে।
সূত্র : বিবিসি




