সিঙ্গাপুরে গাড়ি চালানোর সনদ পেতেই লাগবে ১ লাখ ডলার

সনদের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে- রয়টার্স
সিঙ্গাপুরে ছোট আকারের একটি গাড়ির মালিক হতে এখন প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থ ব্যয় করতে হবে শুধু ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট (সিওই)’ কিনতেই। বুধবার দেশটির যানবাহন কোটাভিত্তিক ব্যবস্থায় ছোট গাড়ির জন্য এই সনদের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সড়কে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের মধ্যে সীমিত রাখতে সিঙ্গাপুর সরকার নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে নির্দিষ্টসংখ্যক সিওই ইস্যু করে। এই সনদধারী ব্যক্তি ১০ বছর পর্যন্ত একটি গাড়ির মালিক হতে পারেন।
প্রায় ৬১ লাখ মানুষের দেশ সিঙ্গাপুরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়িতে এক ঘণ্টারও কম সময়ে যাওয়া সম্ভব। তবু যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর এই কোটাব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এই নীতির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশে পরিণত হয়েছে সিঙ্গাপুর, যদি কেউ নতুন গাড়ি কিনতে চান।
১ দশমিক ৬ লিটারের কম ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন ছোট গাড়ির সিওই-এর দাম মহামারির আগের সময়ের তুলনায় চার গুণ বেড়েছে। আপাতত দাম কমারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মে মাসে সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পরিবহনমন্ত্রী জেফরি সিও বললেন, তুলনামূলক কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে নিলামে ছোট গাড়ির জন্য বরাদ্দ সনদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।
বর্তমানে শুধু একটি সিওই-এর দামই যুক্তরাষ্ট্রে চারটি টয়োটা করোলা কেনার সমান। আর সিঙ্গাপুরে একই গাড়ি কিনতে সনদ, নিবন্ধন ফি ও করসহ মোট খরচ হবে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মার্কিন ডলার)।
তুলনামূলকভাবে, সিঙ্গাপুরে একটি পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫২ সিঙ্গাপুর ডলার। অন্যদিকে, সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত একটি ছোট ফ্ল্যাটের দাম শুরু হয় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার থেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বড় গাড়ির সিওই-এর দাম প্রথম এক লাখ ডলার অতিক্রম করেছিল। তখন ছোট গাড়ির সনদের দাম ছিল প্রায় ৭৭ হাজার ৫০০ ডলার। চলতি বছরের প্রথম নিলামে যার মূল্য ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৯ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৭৮ হাজার ৮৪৪ মার্কিন ডলার)। এরপর থেকে দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।
কম দামের সনদের আওতায় আনতে অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের বাজারের জন্য জনপ্রিয় মডেলগুলোর ইঞ্জিনের ক্ষমতা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে তৈরি করে।




