‘ডোকডো’ দ্বীপ নিয়ে নতুন করে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া উত্তেজনা

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ‘ডোকডো’ দ্বীপকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাপানে ‘তাকেশিমা’ নামে পরিচিত দ্বীপটির কাছে সামুদ্রিক এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমোদনহীন সামুদ্রিক জরিপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জাপান সরকারের দাবি, টোকিওর পূর্বানুমতি ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়া জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) সীমানার মধ্যে সামুদ্রিক জরিপ চালিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে জরিপ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে টোকিও।
সম্প্রতি বিতর্কিত ওই সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সামুদ্রিক গবেষণাজাহাজকে জরিপ কার্যক্রম চালাতে দেখে জাপানের কোস্ট গার্ড। এরপর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। টোকিওর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাপানের নীতি অনুযায়ী এ ধরনের বৈজ্ঞানিক জরিপ চালাতে হলে আগে অনুমতি নিতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়া তা না করে জাপানের সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে।
তবে জাপানের এই প্রতিবাদ গ্রহণ করেনি দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের অবস্থান হলো, ডোকডো তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক ভূখণ্ড। তাই নিজেদের ভূখণ্ড ও জলসীমায় গবেষণা চালানোর জন্য জাপানের অনুমতির প্রয়োজন নেই।
ডোকডো নিয়ে দুই দেশের বিরোধ বহু বছরের পুরনো এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনেরও আগে থেকেই কোরিয়া দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। বর্তমানে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
অন্যদিকে জাপানের দাবি, ১৯০৫ সালে দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। টোকিও দ্বীপটিকে ‘তাকেশিমা’ নামে দাবি করে আসছে। এ কারণে মানচিত্র, পাঠ্যপুস্তক কিংবা সামুদ্রিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হলেও ডোকডোকে ঘিরে বিরোধ এখনো স্পর্শকাতর। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় দুই দেশকে সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিতর্কিত জলসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামুদ্রিক জরিপকে কেন্দ্র করে নতুন এই উত্তেজনা দুই দেশের পুরনো ভূখণ্ডগত বিরোধের সংবেদনশীলতাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।




